বাংলাদেশ সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এমন ২০ জন কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করার পর এটি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত পহেলা জুলাই সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছিল সরকার।
‘আওয়ামী লীগের সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদে’র আবেদন পর্যালোচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তখন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল।
আবার অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ ও জনপ্রশাসনে বহু বছর আগে স্বাভাবিক কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের অনেককে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। সূত্র বিবিসি
ওই সরকারে আমলে ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বরখাস্ত হওয়া ৮৫ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করেছিল নির্বাচন কমিশন বা ইসি।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এ ধরনের চাকরিতে পুনর্বহালের অনেক ঘটনা ঘটেছে। সেই সরকারের সময়ে আবার বহু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকুরিচ্যুত কিংবা নানা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আওতায় নেওয়া হয়েছিল।
এখন আবার একই ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠছে যে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পাওয়া কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় ফিরিয়ে নেওয়া কী বার্তা দিচ্ছে?
কারণ একই সময় অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের এই কয়েক মাসে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অনেক কর্মকর্তা এখনো ওএসডি অবস্থায় আছেন।
জনপ্রশাসন কিংবা আমলাতন্ত্র বিষয়ে অভিজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার — যোগ্যতা দক্ষতার চেয়ে সরকারের পছন্দ অপছন্দ বা রাজনৈতিক বিবেচনাই বেশি গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়টির বহিপ্রকাশ ঘটছে।
“সব সরকারের সময়েই ঘটনাগুলো ঘটে আসছে। কিন্তু দলীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনা করে কাউকে বিদায় করলে সরকার পরিবর্তন হলে তাদের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে ফিরিয়ে আনলে সেটি রাজনৈতিক দৌরাত্মকেই শক্তিশালী করে,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলছেন, সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় বা সরকার পরিবর্তনের পর কাউকে ফিরিয়ে আনা বা পদে বসানো হলে তখন সেটি অনিয়ম। রাজনৈতিক আনুকূল্য পাওয়া ব্যক্তিরাই এসব সুবিধা নেয় বলে মনে করেন তিনি।

