37.5 C
Chittagong
শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামচট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জনসমুদ্র

‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই’

চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জনসমুদ্র

সুসংবাদ ডেস্ক:

চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশ্বনবীর পৃথিবীতে আগমন উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের আয়োজনে এবারের ৫১ তম জসনে জুলুসে আয়োজকদের আশা বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডে স্থান পাবে। লাখ লাখ নবীপ্রেমীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় সম্মেলন থেকে দেশে-দেশে যুদ্ধবিগ্রহ ও হানাহানি বন্ধ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় রাসূলের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা থেকে সম্মিলিত শোভাযাত্রা শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রদেশের সিরিকোট দরবার শরীফের উত্তরাধিকার সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ, সাবির শাহ ও হাশেম শাহ। তাকবির, দরুদ, হামদ, নাতে রাসুল, গজল, জিকিরে মুখর ছিল চট্টগ্রাম।

আওলাদে রাসূলদের নিয়ে কাচে ঘেরা ফুলে সাজানো গাড়িটি যখন খানকাহ শরীফ থেকে মুরাদপুর আসে, তখন দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজারসহ সারাদেশ থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের স্রোত নামে নগরজুড়ে। মুরাদপুর, চকবাজার, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ শোভাযাত্রার অগ্রভাগে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেল।

হাজার হাজার মানুষ সড়কের দুপাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন হুজুর কেবলাদের একনজর দেখার জন্য। কেউ কেউ ফুলের পাপড়ি, গোলাপজল ছিটিয়ে স্বাগত জানায় জুলুসকে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) জশনে জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলার ভক্তরা আসতে থাকেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে। দেখতে দেখতে কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। জামেয়ার বিভিন্ন ব্যাচের ছাত্র, গাউসিয়া কমিটির বিভিন্ন শাখার কর্মীরা ঈদের খুশিতে মেতে ওঠেন। একই ডিজাইনের পাঞ্জাবি, টুপি, পাগড়ি পরে নজর কাড়েন সবার। মোড়ে মোড়ে শরবত, পানি, চকলেট, খেজুর, রুটি, আমলকীসহ নানা ধরনের খাবার ও পানীয় দেন হুজুর কেবলার ভক্তরা।

জুলুস বিবিরহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুল, কাতালগঞ্জ, চকবাজার অলিখাঁ মসজিদ, প্যারেড মাঠের পশ্চিম পাশ হয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, গণি বেকারি, খাস্তগীর স্কুল, আসকার দীঘি, কাজীর দেউড়ি, আলমাস, ওয়াসা, জিইসি, দুই নম্বর গেট ঘুরে জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে মাহফিলে আসে জোহর নামাজের আগেই। কাজীর দেউড়ি মোড়ে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত করেন হুজুর কেবলা। জোহর নামাজের পর জামেয়া মাদ্রাসার মাঠে দোয়া ও মোনাজাত হয়। এ সময় আমিন আমিন ধ্বনিতে ভাবগাম্ভীর পরিবেশ তৈরি হয়।

এর আগে জুলুস মাঠে বক্তব্য দেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান, আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মো. শামসুদ্দিন, জামেয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ আবদুল আলিম রেজভি, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ।

সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীতে যানবাহন ছিল তুলনামূলকভাবে কম। এরপর শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নগরীর সংশ্লিষ্ট এলাকা ও সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল সীমিত করে পুলিশ। নগর পুলিশের পক্ষে জানানো হয় ‘শান্তিপূর্ণভাবে জশনে জুলুছ হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য পুরো নগরীতে মোতায়েন ছিল।’

আয়োজক সংগঠন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের যুগ্ম মহাসচিব মোছাহাব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, ‘১৯৭৪ সাল থেকে ঈদে মিলাদুন্নবীতে চট্টগ্রামে জশনে জুলুছ (শোভাযাত্রা) হয়ে আসছে। আমাদের বার্তা হচ্ছে— শান্তি ও মানবতা। আল্লাহ তার রাসুলকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন রহমত হিসেবে। এই রহমত শুধু মুসলমানের জন্য নয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানসহ সমগ্র মানবজাতির জন্য। মানবতাই হচ্ছে বড় ধর্ম। দাঙ্গা, হাঙ্গামা, আগুন, জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর— এসব ইসলামে নেই। আমাদের হুজুরও বলেছেন, আমান বা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি মানবতা ও শান্তির ডাক দিয়েছেন।’

সংগঠনের উপদেষ্টা পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ইসলামের বড় দৃষ্টান্ত। অসাম্প্রদায়িকতা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবীর আদর্শে উজ্জীবিত হতে হবে।’

১৯৭৪ সালের ১২ রবিউল আউয়াল বাংলাদেশে প্রথম জুলুসের সূচনা হয় গাউসে জামান আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (র.) এর দিকনির্দেশনায়। চট্টগ্রামের বলুয়ার দীঘির পাড় খানকাহ শরিফ থেকে আনজুমানের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নূর মোহাম্মদ আলকাদেরির নেতৃত্বে জুলুসটি বের হয়েছিল।

আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (র.) চট্টগ্রামে জুলুসের নেতৃত্ব দেন ১৯৭৬ সালে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি জুলুসে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি আর বাংলাদেশে আসেননি। তখন থেকে জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হুজুর কেবলা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মজিআ)।