31.8 C
Chittagong
শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদটপ নিউজনভেম্বরে সড়কে ঝরেছে ৪৬৭ প্রাণ,চট্টগ্রামে ৪৯

নভেম্বরে সড়কে ঝরেছে ৪৬৭ প্রাণ,চট্টগ্রামে ৪৯

সড়ক দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র গেল নভেম্বর মাসে মারা গেছেন অন্তত ৪৬৭ জন। যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৩৮টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছে।

সারাদেশে নভেম্বর মাসে আহত হয়েছেন ৬শ ৭২ জন। আর এই এক মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৫শ ৪১ এ পৌঁছেছে, যার ৩৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

শনিবার ৯ ডিসেম্বর রোড সেফটি ফাউন্ডেশন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০৭টি। আর এসকল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮১ জন, যা মোট মৃত্যুর হিসেবে ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারী ৫৩ এবং শিশুর সংখ্যা ৬৬ জন। এছাড়াও পথচারী নিহত হয়েছে ১০৬ জন, যা মোট নিহতের ২২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এসকর দুর্ঘটনায় যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৮ জন, যা মোট নিহতের হিসেবে ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এই সময়ে ৫টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন। ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৮১ জন (৩৮.৭৫%), বাস যাত্রী ৮ জন (১.৭১%), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-পুলিশভ্যান আরোহী ২০ জন (৪.২৮%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-পাজেরো জীপ আরোহী ১৩ জন (২.৭৮%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ১০৬ জন (২২.৬৯%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-করিমন-চান্দেরগাড়ি-টমটম-পাওয়ারটিলার-ইটভাঙ্গা মেশিন গাড়ি) ১৪ জন (২.৯৯%) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশা ভ্যান আরোহী ১৯ জন (৪.০৬%) নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭৯৬টি। যার মধ্যে- বাস ৮৩, ট্রাক-১২৬,কাভার্ডভ্যান ৩৩, পিকআপ ২৯, ট্রাক্টর ১২, ট্রলি ১৩, লরি ১৫, ড্রাম ট্রাক ৪, পুলিশভ্যান ১, অক্সিজেনবাহী ট্যাঙ্কার ১, মিকচার মেশিন গাড়ি ১, চাষের ট্রাক্টর ১, মাইক্রোবাস ১২, প্রাইভেটকার ২২, অ্যাম্বুলেন্স ৫, পাজেরো জীপ ৪, মোটরসাইকেল ২১১, থ্রি-হুইলার ১৩৯ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৪ (নসিমন-করিমন-ভটভটি-পাখিভ্যান-মাহিন্দ্র-চান্দের গাড়ি-লাটাহাম্বা-টমটম-পাওয়ারটিলার-ইটভাঙ্গার মেশিন গাড়ি-আখ মাড়াই মেশিন গাড়ি), বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ৩৩ এবং অজ্ঞাত গাড়ি ১৭টি।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৩৮টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২১টি দুর্ঘটনায় ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩৮টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ি জেলায়। দু’টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং ৩১ জন আহত হয়েছে।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়: 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ৩ জন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ৭ জন, চিকিৎসক ৩ জন, আইনজীবী ৩, সাংবাদিক ৪ জন, প্রকৌশলী দু’জন, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপাতি আরিফুল ইসলাম, বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৫ জন, এনজিও কর্মকর্তা- কর্মচারী ৬ জন, বিয়ের কাজী, মুয়াজ্জিন ও ইমাম ৪ জন, ভারতীয় নাগরিক দু’জন, ভূমিহীন আন্দোলনের নেতা ১ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৬ জন।

এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ২৩ জন, ইউপি মেম্বারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ১২ জন, পোশাক শ্রমিক ৫ জন, কর্ণফুলী গ্যাস লাইনের শ্রমিক ১ জন, পদ্মাসেতুর রেল শ্রমিক ১ জন, ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি ১ জন, মোটর মেকানিক ১ জন, ইটভাটা শ্রমিক দু’জন, পাটকল শ্রমিক ১ জন, দিনমজুর ৬ জন, মানসিক প্রতিবন্ধী ৪ জন এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের ১ জন, তিতুমীর কলেজের ১ জন ছাত্রসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-মাদরাসা-কলেজের ৬৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।