26.9 C
Chittagong
সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদউপজেলাকর্ণফুলীকে জাতীয় নদী ঘোষণার দাবী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার

কর্ণফুলীকে জাতীয় নদী ঘোষণার দাবী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার আজীবন সদস্য ও চুয়েট-এর সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইন্জিনিয়ার মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, দেশের নদ-নদীসম্পদের মধ্যে কর্ণফুলী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী।

তিনি বলেন প্রাকৃতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ এ নদীর দূষণরোধ, দখলপ্রতিরোধ ও সুরক্ষায় আইনী ব্যবস্থার রায় পেতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

এ নদীর রাঙ্গুনিয়া অংশের প্রধান শাখানদী ইছামতি ও শিলক খালের অনিয়মভাবে ও অবৈধ পন্থায় বালি উত্তোলনের কারণে নদীশাসন ও গতিপ্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এ দেশের বড় বড় নদীগুলোর অধিকাংশ নদীর উৎপত্তিস্থলের নামকরণ ও এ দেশের অংশের নামকরণ অভিন্ন। কিন্তু কর্ণফুলী নদীর ‘কর্ণফুলী’ নামকরণ কেবল এ দেশেই।

তাই তিনি কর্ণফুলীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, চরিত্র ও গতি-প্রকৃতির সুরক্ষা ও মানবসৃষ্ট দূষণ-দখল উচ্ছেদে তদারকি ও তত্ত্বাবধান ইত্যাদির প্রেক্ষিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক একে ‘জাতীয় নদী’র ঘোষণা চাই।

গেল ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মডেল শাখা ও পৌরসভা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়েজিত সেমিনার এবং গুণী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

উপজেলা মডেল শাখার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার-এর সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশনের সূচনাপর্বে বিশ্ব মুসলিমের প্রথম কা’বা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস ও নিরীহ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনী মুসলমানদের মাতৃভূমি দখলে নেয়ার জন্য ইসরাইলী হানাদার বাহিনীর গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও নজিরবিহীন বর্বরতার নিন্দা এবং শাহাদাত বরণকারীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে “কর্ণফুলী নদীর ভাঙ্গন ও দূষণ রোধ এবং গুমাই বিল সুরক্ষা : সময়োচিত করণীয়” বিষয়ে সেমিনার পেপারের ১ম অংশ উপস্থাপন করেন কর্ণফুলী সুরক্ষা সংগঠক, সাংবাদিক আলীউর রাহমান।

২য় অংশ উপস্থাপন করেন গুমাই বিল সুরক্ষা সংগঠক, সাংবাদিক মো. এনায়েতুর রহিম।প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করেন রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী, সংস্থার আজীবন সদস্য অধ্যাপক এম এ সালাম, অধ্যাপক মো. শওকত হোসেন, অধ্যক্ষ মো. আবু ইউসুফ ও ড. এস এম ফয়সল অশ্রু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ইন্জিনিয়ার মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক আরো বলেন, এ দেশে ধান উৎপাদনে বৃহৎ ও প্রসিদ্ধ বিলগুলোর মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল দু’ফসলী আবাদের অন্যতম প্রসিদ্ধ বিল।

আগেকার যুগে এটি ছিল এ অঞ্চলের বৃহত্তর অনাবাদী ঝিল। সমাজচিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব আবদুল বারী তালুকদারের মেধা মনন শ্রম ত্যাগ ও প্রচেষ্টায় বিশাল এ ঝিল বিলে পরিণত হওয়ায় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাকে ‘ফাদার অব গুমাই’ খেতাবে ভূষিত করেন।

চুয়েট-এর সাবেক এ ভাইস চ্যান্সেলর তার বক্তব্যে বলেন, দেশের তৎকালীন দু’দিনের খাদ্য উৎপাদনের ভান্ডারখ্যাত এ বিলে অনুমোদনবিহীন ঘরবাড়ী ও মার্কেট নির্মাণ এবং ইটভাটা স্থাপন করা হচ্ছে। ফলে চাষাবাদ ক্ষেত্র ক্রমশঃ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে।

তিনি এ বিলের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় আজকের সেমিনার থেকে কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘গুমাইবিল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের জোর দাবী জানান।

দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম পর্বে ৮ গুণীকে ‘মানবাধিকার পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।কর্ণফুলী, নদী, মানবাধিকার

ইসলামী আধ্যাত্মিকতায় হযরত আল্লামা হাফিয সৈয়দ বিসমিল্লাহ্ শাহ্ (রাহ্), তার সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্র হযরত মাওলানা সৈয়দ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শহীদ সৈয়দ খাজা আহমদ (মরণোত্তর), তার সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পৌত্র সৈয়দ এহসানুল হুদা।

সমাজসেবায় ইউনিয়ন বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আহমদ তালুকদার (মরণোত্তর), তার সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পৌত্র নূরুল আজিম।

বিজ্ঞান গবেষণায় মহাকাশ বিজ্ঞানী মোহাম্মদ ওবাইদুল কাদের, শুদ্ধাচার ও সততায় অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডিশন্যাল আইজিপি (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশী, উচ্চতর শিক্ষায় অধ্যক্ষ প্রফেসর জ্যোস্না বিকাশ চৌধুরী (মরণোত্তর), তার সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্র অসীম কুমার চৌধুরী।

মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রধান শিক্ষক মতিলাল বিশ্বাস (মরণোত্তর), তার সম্মাননা গ্রহণ করেন তার শুভাকাঙ্খী অ্যাডভোকেট বঙ্কিম চন্দ্র দাশ, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রধান শিক্ষক ডা. মোহাম্মদ মুছা (মরণোত্তর), তার সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্র অধ্যক্ষ এএনএম ইউসুফ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথিরা বলেন,জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের আলোকে অধিকারহারা ও অসহায়দের বিনাখরচায় আইন সহায়তাকারী দেশের প্রাচীনতম এ সংস্থার অনুসৃত কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে নানাভাবে অবদানের জন্য খুঁজে খুঁজে গুণীদের মূল্যায়নে আমরা পুলকিত ও ধন্য।

আমরা এ সংস্থার ভাবমর্যাদার সমৃদ্ধি কামনা করছি এবং নীতিনির্ধারক ও অনুসৃত নীতি বাস্তবায়নে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

দ্বিতীয় পর্বে ৪ পিএইচডি গবেষণক, ১ এমফিল গবেষক, ৩ গ্রন্থ প্রণেতা ও ১টি শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী সংগঠন ‘সরফভাটা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি চট্টগ্রাম’কে ‘মানবাধিকার সনদ’ এবং উভয় শাখার আজীবন সদস্যদের ‘আজীবন সদস্য সনদ’ প্রদান করা হয়।

সোসাইটির পক্ষে সভাপতি ডা. এস এম আবুল ফজল শ্রেষ্ঠ সংগঠনের সনদ গ্রহণ করে তার কৃতজ্ঞতাময় অভিমত ব্যক্ত করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার পূর্ব পার্শ্বস্থ ড্রীম রেস্টুরেন্ট কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ২য় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার পৌরসভা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম।

সমাপনী পর্বে উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম আজাদ ও পৌরসভা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্ব স্ব শাখার বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

উপজেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুল করিম রিংকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন মানবাধিকার কর্মী মাওলানা মুহাম্মদ আলমগীর, গীতা পাঠ করেন ডা. সুভাষ চন্দ্র সেন ও ত্রিপিটক পাঠ করেন কমরেড প্রমোদ বরণ বড়ুয়া।

রাঙ্গুনিয়ার সব ঘরানা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের সুধীজনের প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার সমাপনী বক্তব্যে রাঙ্গুনিয়ায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মপদ্ধতি, কর্মকৌশল ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সংবর্ধিত গুণীজন ও মরণোত্তর গুণী-প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি উভয় শাখার কার্যকরী পরিষদ, আজীবন সদস্য, প্যানেল ল’ইয়ার, প্যানেল মেডিয়েটর, ইউনিয়ন শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অর্থসম্পাদক, উপকারভোগী ও শুভাকাঙ্খীরা উপস্থিত হয়ে দিবস উদযাপনের সকল কর্মসূচী সফল করায় ধন্যবাদ জানিয়ে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।