চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে বহুল আলোচিত আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি শ্রী গনেশ প্রকাশ শ্রী গনেজ (১৯)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদীঘী কোর্ট রোড জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার গনেশ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন সেবক কলোনীর বাসিন্দা শেরীপ প্রকাশ শরিফ দাশের ছেলে।
র্যাব জানায়, বহুল আলোচিত আইনজীবী আলিফ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে গোপন সোর্সের তথ্যে র্যাব জানতে পারে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি শ্রী গনেশ প্রকাশ শ্রী গনেজ নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় অবস্থান করছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে লালদীঘী কোর্ট রোড জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
রবিবার দুপুরে র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তার গণেশ চাঞ্চল্যকর আইনজীবি আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণেশকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য : গত বছরের ২৫শে নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এসময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারাগারে নিয়ে যেতে বাধা প্রধান করে।
পরর্বতীতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় একটি চেম্বার ভাঙচুর করে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে আদালতের বিপরীতে দিকে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় থাকা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী চন্দন, রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ, সুকান্ত, শ্রী গনেশ এবং তার অন্যান্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ২৭ ও ২৮ নভেম্বর কর্মবিরতি পালন করে।
উক্ত নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়।
পরে নিহত আলিফের বাবা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৪৬(১১)২৪।

