27.1 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদআইন আদালতহাসিনার ‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীর পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ

হাসিনার ‘পিয়ন’ জাহাঙ্গীর পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের নামে থাকা পৌনে দুই কোটি টাকার জমি ও ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের সাতটি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। দুদকের পৃথক আবেদনের ভিত্তিতে আদেশটি আসে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, জাহাঙ্গীর আলমের নামে নোয়াখালীর সদর উপজেলা ও চাটখিলের মোট এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪০ টাকার ৩৫ শতাংশ জমি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মিরপুরে ১৩৮৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটও জব্দ করতে বলা হয়েছে, যার মূল্য ৪১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহারের সাতটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব হিসাবের মোট ব্যালান্স এক কোটি তিন লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৯ টাকা। দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল জমি ও ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তার ব্যক্তিগত ও মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। তদন্তের স্বার্থে তার সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন বলে আদালতে বলা হয়েছে।

কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার সাতটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি নিয়ে বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, তার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক।

তিনি বলেন, “আমার বাসায় কাজ করেছে, পিয়ন ছিল সে, এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না।

কী করে বানাল এত টাকা? জানতে পেরেছি, পরেই ব্যবস্থা নিয়েছি।” যদিও সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে তার ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ আসে।

জাহাঙ্গীর আলম শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি শেখ হাসিনা বিরোধী দলেও তার ‘ব্যক্তিগত স্টাফ’ হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ব্যবহারকৃত খাবার ও পানি বহন করতেন, এজন্য তিনি ‘পানি জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিতি পান।

জাহাঙ্গীরের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নে। তিনি চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রও তুলেছিলেন।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় ব্যবহার করে জাহাঙ্গীর আলম নোয়াখালী ও ঢাকায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বা কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে।

মামলার আগে দুদক তার দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীর নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তিনি ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থবিত্তের মালিক হন।

দ্বাদশ সংসদে নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামায় তিনি নিজ নামে প্রায় ২১ কোটি টাকার সম্পদ এবং স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দেন।

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি আদালত জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়।