20.1 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদঅর্থ-বাণিজ্যজানুয়ারিতে রফতানিতে রেকর্ড ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

জানুয়ারিতে রফতানিতে রেকর্ড ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দা ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশের রফতানি খাত।

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের রফতানি আয়ে আগের মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ মাসিক অগ্রগতি।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, জানুয়ারি মাসে দেশের মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এর আগের মাস ডিসেম্বর ২০২৫-এ রফতানি আয় ছিল ৩ হাজার ৯৬৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সাত মাসে মোট রফতানি হয়েছে ২৮ হাজার ৪১০ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

যদিও এই অঙ্কটি গত অর্থবছরের একই সময়ের ২৮ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা কম, তবে জানুয়ারির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি রফতানি খাতে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রফতানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত তার প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৯৮০ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবেই এ প্রবৃদ্ধিকে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতেও মাসিক ও বার্ষিক উভয় ভিত্তিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হিমায়িত মাছ খাতে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে।

রফতানি গন্তব্যের বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আয় হয়েছে ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার।

এ সময়ে দেশটিতে রফতানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং জানুয়ারি মাসে এককভাবে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে।

এ ছাড়া জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। জার্মানিতে রফতানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৫২ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ২ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য প্রধান বাজার— বিশেষ করে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও গ্রেট ব্রিটেনেও বিভিন্ন সময়সীমায় প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।

এতে প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা ও বাজার বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও রফতানি খাতে এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকতে পারে।