30.6 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামব্যক্তিস্বার্থে কর্ণফুলী দখল করে মাছ বাজার 

খালী পড়ে আছে শত বছর প্রাচীন মনোহরখালী ফিশারী ঘাট

ব্যক্তিস্বার্থে কর্ণফুলী দখল করে মাছ বাজার 

পূর্ববার্তা প্রতিবদেন

ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে কর্ণফুলী নদী দখল করে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট। শত বছর ধরে জেলেদের জীবন জীবিকার একমাত্র অবলমন্বন মনোহরখালী ফিশারি ঘাট বাজার জোর করে বন্ধ করে কর্ণফুলী নদী দখল করে গড়ে উঠা মাছ বাজারটি ২০১৫ সালে চালু করা।

তৎকালীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিএস ১নম্বর খাস খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত কর্ণফুলী নদী দখল মাছ বাজার গড়ে তোলেন। জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন বার বার আপত্তি ও প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও বাজারটি চালু করা হয়।
পুরাতন মনোহরকারী বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বংশ পরম্পরায় পেশাগত তিনশত জেলে পরিবার তাদের জীবিকা হারিয়েছে। বর্তমান কর্ণফুলী দখল করে গড়ে উঠা ফিশারি ঘাটের প্রায় সমান পুরাতন মনোহরখালী মাছ বাজারটি ২০১৪ সালের পর থেকে খালী পড়ে আছে।

মনোহরখালীর পেশাহীন জেলে পরিমল জলদাস বলেন, মনোহরখালী পুরাতন মাছ বাজারে মাছ বিক্রি করে আমাদের জীবিকা চলতো। ২০১৪ সালে চলমান বাজারটি সিটি কর্পোরেশনের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। বাজারে থাকা আমাদের তিন ট্রাক মাছ সিটি কর্পোরেশন লুট করে নিয়ে যায়। এখন নদী দখল করে গড়ে উঠা মাছ বাজারে আমাদের কোন স্থান নাই। বড় ব্যবসায়ী আড়তদার সেখানে ব্যবসা করে। মনোহরখালী মাছ বাজার চালু হলে আমাদের পেশায় আবারও ফিরে যেতে পারবো। গত দশ বছর ধরে আমরা পেশা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।


২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মধ্যবর্তী স্থানের নদী অংশে জেগে ওঠা চর বন্দর কর্তৃপক্ষ ফিশারিঘাটকে ইজারা দেয়। এর আয়তন ৩ দশমিক ৯৭ একর। ইজারা পাওয়ার অন্তত দেড় বছর আগে থেকে সেখানে বাজার কার্যক্রম চলে আসছিল। বর্তমানে দুই শতাধিক দোকানপাট রয়েছে।
উক্ত বাজারের ২০০ মিটার দূরত্বে মনোহরখালী এলাকায় আরেকটি বড় মাছবাজার থাকার পরও এই ইজারার প্রতিবাদ করে নদী রক্ষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন, যা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। আদালত বাজারটি অবৈধ উল্লেখ করে উচ্ছেদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
জেলা প্রশাসনও উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। এরপর বাজারের পক্ষে দুই দফা আপিল করা হয়। এখন শেষ আপিলটি বিচারাধীন।

অবৈধ মাছ বাজার উচ্ছেদ সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্পর্কে বলেন, উচ্চ আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি হলে দ্রুত কর্ণফুলীর সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে ফিরিঙ্গী বাজারে পর্তুগিজরা গোড়াপত্তন ঘটান এই মাছঘাটের। চট্টগ্রামে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন এবং বন্দরের শুল্ক আদায়ের অধিকার পেয়ে পর্তুগিজরা এখানে আড়ত স্থাপন করে। কালের পরিক্রমায় তা সরে যায় পাথরঘাটা ইকবাল রোডে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জাপান সরকারের অনুদানে ১৯৯৪ সালে ৫৪.২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১.৬৯ একর জমির উপর কর্ণফুলী নদীর উত্তর তীরে ইউনিটটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে নিম্নোক্ত সুবিধাদি বিদ্যমান আছে।

৩০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বরফকল একটি বড় নিলাম শেড ও আড়ৎঘর (মৎস্য বিপণনের জন্য) ১০০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন ফ্রিজিং স্টোর রয়েছে। যা এখন অব্যবহৃত শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। এ আর আর