26.9 C
Chittagong
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদরাজনীতিআওয়ামী লীগের ভোট চুরির প্রয়োজন হয় না: শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের ভোট চুরির প্রয়োজন হয় না: শেখ হাসিনা

রাজনীতি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা (আওয়ামী লীগ) ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছি। নির্বাচন কমিশনকে আমরা স্বাধীন করে দিয়েছি। কারণ, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। যেহেতু গণতন্ত্র অব্যাহত রয়েছে, তাই মানুষ শান্তিতে আছে। মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে। তাই আমাদের ভোট চুরির প্রয়োজন হয় না।

আজ সোমবার (১ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। বিএনপির চুরি-দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে জনগণ ২০০৮ সালে প্রত্যাখ্যান করেছে। জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুন করা এটাই তারা শুধু জানে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীর পিতার বঙ্গবন্ধুর আমলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ ছিলো। ৯ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি এখন পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি, আমরাও পারিনি। আমরা ৮ পর্যন্ত তুলেছিলাম। এই দেশটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়, ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ, জাতির পিতার ছবি নিষিদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা। এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলো মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা বলতে ভয় পেতো।

তিনি বলেন, ৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল। তারা ক্ষমতায় এসেছিল অস্ত্র হাতে নিয়ে। মানুষের ভাগ্য গড়েনি। এই দেশটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়। যে জয় বাংলা স্লোগানে দেশের মানুষ তাজা রক্ত দিয়েছিল, সেটিও নিষিদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, জাতির পিতার রেখে যাওয়া ২৭৭ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয় জিয়া-এরশাদের আমলে বৃদ্ধি পায়নি। বরং জিয়ার আমলে প্রতি বছর এটা মাইনাস হতে থাকে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য না গড়লেও ক্ষমতাসীনদের ভাগ্য গড়ে। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ওই মিলিটারি ডিক্টেটর পকেট থেকে যে দলটি বের হয় সে দলই হচ্ছে বিএনপি। স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, মা-বোনকে লাঞ্ছিত করেছে তারাই জামায়াত।

শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন বাংলাদেশে ফিরে আসি। আমার ফেলে রাখা আপনজনদের পাইনি। পেয়েছি, হাজার হাজার মানুষ। সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলাম, এ বাংলাদেশের মানুষই আমার পরিবার। তাদের মধ্যেই আমি খুঁজে পাবো, বাবা-মা ভাইবোনের স্নেহ। হ্যাঁ, এটা পেয়েছি। একটা প্রত্যয় ছিল, সবার মুখে খাদ্য তুলে দেবো। কেউ গৃহহীন ভূমিহীন থাকবে না। সবাইকে উন্নত জীবন দেবো। ক্ষমতায় এসে সেই কাজ শুরুও করেছিলাম। কিন্তু গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিইনি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

তিনি বলেন, তবে তাদের দুর্নীতির কারণে ২০০৮ সালে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা ২৩৩ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছি। ২০১৩-১৪ সালে আগুনে মানুষ পুড়িয়েছে, কিন্তু নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। তারেক জিয়া দেয় নমিনেশন, গুলশান থেকে ফখরুল দেয় নমিনেশন, পল্টন অফিস থেকে রিজভী দেয়। ওইভাবে নমিনেশন বিক্রির ফলে তাদের নির্বাচন ভেস্তে যায়। দোষ দেয় আমাদের ওপর।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অথচ আওয়ামী লীগ ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার সয়েছে, জেলে খেটেছে। এখন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদেরই দাবি ছিলো, নির্বাচনের যে সংস্কার সে সংস্কারগুলো তারা কিছু করে। পরবর্তীতে আমরা এসে আইন করি। নির্বাচন কমিশন এখন আইনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আর্থিকভাবে প্রাইম মিনিস্টার অফিসের ওপর ন্যস্ত ছিলো। আমরা স্বাধীন করে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন যেনো স্বাধীনভাবে করতে পারে আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমরা ক্ষমতায় ছিলাম ও আছি।

যেহেতু গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা আছে, এ সময় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসা সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছি। মানুষের হৃদয় জয় করে মানুষের ভোট পাই। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, আমার কথা না হাইকোর্টের রায় আছে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা অবৈধ, এরশাদের ক্ষমতা দখল অবৈধ।

এর আগে বিকেল সোয়া তিনটায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় পৌঁছান শেখ হাসিনা। এসময় স্লোগান স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে স্লোগানের জবাব দেন তিনি। পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান পৃথকভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর চলে বক্তব্যের পালা। এতে ঢাকার আসনগুলোর দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।