27.5 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদজাতীয়আগামীকাল ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক :

দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এ সফরে দুই দেশের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে এমওইউ ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে তার বিস্তারিত কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, সাধারণত এ ধরণের সফরের আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং করে সফর সম্পর্কে জানানোর রেওয়াজ থাকলেও এবার এখনো তা হয়নি।

কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সচিব মাসুদ বিন মোমেন ঢাকায় নেই। আর তাদের অনুপস্থিতিতে এই সফর নিয়ে অন্য কাউকে কিছু বলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।

সফরটির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এবং সেখান থেকেই গতকাল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সফর সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্র ও শনিবার দিল্লি অবস্থান করবেন।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ দফায় সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রথম বিদেশ সফর ভারতে করছেন। কূটনীতি এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে থেকে এ সফরের উল্লেখযোগ্য দিক এটাই।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য বলেছেন, তারা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চান, যাতে করে সব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে।

যেসব বিষয়ে এমওইউ ও চুক্তি হতে পারে

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে না দেওয়া হলেও ঢাকায় কর্মকর্তারা যে ধারণা দিয়েছেন তা হলো ভারতের সঙ্গে আগে হওয়া ঋণচুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই চাইছিল যে পেঁয়াজ বা চিনির মতো জরুরি দরকারি পণ্যগুলোর বাংলাদেশে আমদানির সুযোগ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে ভারত যেন তা নিশ্চিত করে।

এর আগে অনেক বারই দেখা গেছে পেঁয়াজসহ কিছু পণ্যের ওপর ভারত আকস্মিকভাবে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

এবার এ নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

যদিও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন মনে করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় আসার প্রেক্ষাপটে দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনাতেও এটি আসতে পারে। কারণ চীন এ প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চাইছে অনেক দিন ধরেই। আবার ভারতও জানুয়ারির নির্বাচনের পরে এ প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এখানে চূড়ান্তভাবে কী হবে বলা মুশকিল। হয়তো বাংলাদেশে চীনের ফুটপ্রিন্ট বেড়ে যাচ্ছে এ নিয়ে ভারতের তরফ থেকে উদ্বেগও আসতে পারে।

আবার বাংলাদেশ হয়তো ভারতকে বুঝিয়ে বলতে পারে যে এনিয়ে ভারতের নিরাপত্তা-জনিত উদ্বেগের কোনো কারণ থাকবে না। সেক্ষেত্রে একটা সীমিতভাবে চীনকে তিস্তা পরিকল্পনায় কাজ করতে দিতে উভয়পক্ষ একমতও হতে পারে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে কম্প্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ করছি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেই।

জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কারও সঙ্গে সম্পর্ক করব না। ভারতের সঙ্গে বৈরিতা আমরা করতে চাই না। বন্ধুত্বপূর্ণ, ভারসাম্যমূলক ও সম্মানজনক পারস্পরিক কূটনীতি চাই।