28.1 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদটপ নিউজ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের কোনো কার্পণ্য থাকবে না’

‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের কোনো কার্পণ্য থাকবে না’

সুসংবাদ ডেস্ক:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেছেন, সংবিধান সমুন্নত রেখে ও সাংবিধানিক ধারা বজায় রেখে এ দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরেপক্ষ নির্বাচন করা হবে। এমনকি নির্বাচনকালীন সরকারে যদি কেউ আসতে চায়, সংবিধানে না থাকলেও আমরা টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে শতকরা যতজন পায় আমরা তা দিতে পারি। সুতরাং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্পণ্য থাকবে না। তবে সংবিধান মেনে চলতে হবে।

কথায় কথায় সংবিধান পরিবর্তনের কথা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের অনেক কষ্ট ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এ সংবিধান তৈরি করা হয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন,  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য যখন আওয়ামী লীগ আন্দোলন করে তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া উত্তর দেন, এই দেশে পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরেপক্ষ নয়।

তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। আজকে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে হয় তারা কোন কোন পাগল আর শিশু ঠিক করেছেন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার করার জন্য। আমাদের আন্দোলনে বাধ্য হয়ে বিএনপি নিজের মতো করে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন করল। সেই নির্বাচনে বিএনপি দেখল জনগণ আর তাদের সঙ্গে নেই।

তখন থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আর নির্বাচন করে লাভ নেই। তখন থেকে তারা নির্বাচন বয়কটের প্রক্রিয়া শুরু করল। এখন সেই বয়কট নিয়েই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তাদের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হলো। আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হলো।

কিন্তু তার কোনো বিচার হলো না। এমনকি সংসদেও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে দেওয়া হলো না। আজকে তারাই গণতন্ত্রের কথা বলে। জিয়াউর রহমান তার হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে এ দেশে প্রথম ভোটব্যবস্থা বিধ্বস্ত করে। এরশাদ সাহেবের আমলেও একই অবস্থা হয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার ১২ দিন পর ফল ঘোষণা হয়। এই যাদের চরিত্র তারা আজকে গণতন্ত্রের কথা বলে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে। তারা নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না। আর বলে আওয়ামী লীগ তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেছে।

১৪ দলের সমন্বয়ক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মনে হয়েছিল শুধু ওই পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল, বাকি সব ঠিক আছে। কিন্তু আড়াই মাসের মাথায় কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলো। তখন মানুষ বুঝতে পারল, এ হত্যাকাণ্ড কোনো দল বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। এ হত্যাকাণ্ড প্রতিহিংসামূলক স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানকে ভেঙে যারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল তাদের প্রতি ৭১-এর পরাজিত শক্তির প্রতিবিপ্লব সংঘটিত হয়। এই খুনিদের নির্বিচারে বিদেশে যেতে দেওয়া ও পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ পাস করিয়ে তাদের বিচার করার আওতা থেকে বাইরে রাখা হলো। যারা এই হত্যাকারীদের সহায়তা করল তাদের যদি এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকে তবে কেন এই সহযোগিতা করা হলো। পরবর্তীকালে তারা যখন দল গঠন করল তখন যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছে তাদেরকে দলে নিল। সেদিন থেকেই কিন্তু এ দেশে রাজনীতি পাল্টে  দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছে।’

আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে মিয়ানমারের ওপর আক্রমণ করতে চায়। গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে বার্মা প্যাক্ট নামক আইন পাস করেছে। এটাকে বাস্তবায়িত করতে হলে বাংলাদেশের মাটি দরকার। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিভিন্ন যড়যন্ত্র করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনের পূর্বে ও নির্বাচনের পরে বাংলার জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনেরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবেন না। তাহলে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পদদলিত হবে। গণতন্ত্রের নামে আন্দোলন করছে, তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ছত্রচ্ছায়ায় যড়যন্ত্র করছে। সেই যড়যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই আমরা দেশবাসীকে বলতে চাই, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন, ক্ষমতা পরিবর্তনের যড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

আলোচনাসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ও গণ-আজাদী লীগ নেতা এস কে সিকদারসহ ১৪ দলের নেতারা।