চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরে ৩২০টি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কারসহ অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। এসব জাহাজে আটকে আছেন আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক। খবর আরব নিউজ। বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে বিশালাকৃতির ১২টি গ্যাসবাহী এবং ৫০টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী চালু করতে ৩৬ দেশের ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছে যুক্তরাজ্য।
যে কারনে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ^ অর্থনীতি।
যুক্তরাষ্ট্র—ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুনরায় চালু করার উপায় খুঁজতে বৈঠক ডেকেছে যুক্তরাজ্য। দেশগুলোর একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করবে।
মহবিংদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে এড়ড়মষব ঘবিং অনুসরণ করুন
এই বৈঠকে প্রায় তিন ডজন দেশ অংশ নেবে বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার লন্ডন থেকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় ৩৫টি দেশের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
বৈঠকে হরমুজ অঞ্চলে নৌ—চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের কথা জানা যায়নি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে নৌ—চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে বর্তমানে যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
বিস্ময়কর হলেও বৃহস্পতিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার কাজ নয়। মিত্র দেশগুলোকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেরাই করো।’
চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান যেভাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন দিয়ে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করছে, তাতে কোনও দেশই এই মুহূর্তে শক্তি প্রয়োগ করে এই প্রণালি সচল করতে সাহস পাচ্ছে না। তবে কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কীভাবে এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে বিভিন্ন দেশের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। সেখানে ইরানকে হরমুজ প্রণালি অবরোধের চেষ্টা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টায় অবদান রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
স্টারমার স্বীকার করেছেন যে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা সহজ হবে না। এর জন্য সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত ফ্রন্ট এবং সামুদ্রিক শিল্পের সঙ্গে অংশীদারত্বের প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগকে ইউক্রেন যুদ্ধের পর গঠিত কোয়ালিশন অব দ্য উইলিংয়ের আদলে দেখা হচ্ছে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটি একটি বার্তা যে ইউরোপ এখন নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি সক্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ন্যাটো ত্যাগের হুমকির পর ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মহাদেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই বৈঠককে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর কর্মকর্তাদের পর্যায়ে ওয়ার্কিং—লেভেল বৈঠকের মাধ্যমে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

