সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের ন্যাম ফ্ল্যাটে মধ্যযুগীয় রীতিনীতিতে মরিয়মকে শারিরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হতো। মরিয়মের স্বজনদের দাবী গাজীর প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারিরিক নির্যাতন করতো। যা মরিয়ম বার বার ফোনে তার মাকে জানিয়েছে। স্বজনরা দাবী করেন, মরিয়মকে শুধু শারিরিক নির্যাতন নয় অনেকটা নিঃসঙ্গ দ্বীপে র্নিবাসিতার মতো একাকি করে রাখা হয়েছিল। গাজী নজরুল মরিয়মের স্বামী হলেও তার সাথে দেখা সাক্ষাত বা একান্ত সময় কাটানোর কোন সুযোগ দিত না তার প্রথম স্ত্রী। বেশ কয়েকদিন শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। কিছুদিন আগে গাজী নজরুলের সাথে মরিয়মের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর হঠাৎ করেই মরিয়মের চেনা পৃথিবী অচেনা হয়ে যায়। আত্মীয়স্বজন বন্ধুদের সাথে তার সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবার থেকে তার মানসিক অবস্থা জানার চেষ্টা বা তার মতামত জানার চেষ্টা করা হয়নি।
খবরে বলা হচ্ছে, ‘বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুল ও তার স্ত্রী মাকসুদা আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো। আমার মেয়ে প্রায়ই আমাকে ফোনে বলতো। সেই নির্যাতন থেকেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আর এই সবের মূলহোতা হলো আমার শ্যালক ওবায়দুর। ওর জন্যই আমি এমপি’র সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছি। এমপি’র সঙ্গে বিয়ে না হলে আজ এতকিছু হতো না।’
গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশ নিতে এসে অশ্রুশিক্ত হয়ে এসব কথা বলছিলেন নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। এ সময় মরিয়মের বোন, মা—সহ পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ সদস্যদের বরাদ্দকৃত ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা—৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার সময়ে ওই ফ্ল্যাটেরই আরেক কক্ষে এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রোববার রাতেই নজরুল ও মাকসুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন মারিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ।
মামলায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ তার মেয়ের লাশের পাশের বিছানা থেকে একটি সুসাইড নোট পাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও পুলিশের ভাষ্য পাঁচটি সুসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে ক্রাইমসিন থেকে।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা—৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের কয়েকজন নেতা—কর্মী এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। এ ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
এ আর

