আমাদের ইতিহাস তৈরির সুযোগ আছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশকে ম্যানুফেকচারিং হাব করা সরকারের লক্ষ্য।
লালদিয়া গ্রিন পোর্ট হবে। ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। বিষয়টি খুবই সিরিয়াসলি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছি।’
বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল ৯ টায় চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া চর পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে । পোর্ট ক্যাপাসিটি এখন লিমিটেড। ছয় গুণ করার পরও ভিয়েতনামের ধারে কাছেও যাব না। তাই এক্সপার্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া। যাতে কম জায়গায় বেশি অপারেশন করা যায়।’
বেলা সোয়া ১১টার সময় বে-টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, শুরুতেই বে-টার্মিনালে দুই বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।
প্রথম দুটি টার্মিনালের একটিতে পিএসএ সিঙ্গাপুর এবং দ্বিতীয়টিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড দুবাই এক বিলিয়ন ডলার করে মোট দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি শুধু ২০২৬ সালেই একসাথে চলে আসবে, বিষয়টি এমন না। এটা তারা গ্রাজুয়েলি ইনভেস্টমেন্ট আনবেন। আশা করছি, ২০৩০-এর দিকে আমরা টার্মিনালগুলো চালু করতে পারবো।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো— বড় বড় ফ্যাক্টরির জন্য বিনিয়োগ আনা। এতে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যাক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এজন্য পোর্ট (বন্দর) এফিশিয়েন্সি বাড়ানো প্রয়োজন। এখানেও কর্মসংস্থান বাড়বে।
এটা যখন হয়ে যাবে, তখন এই এলাকার চেহারা আমরা আশা করছি কমপ্লিটলি চেঞ্জ হয়ে যাবে। তাই চট্টগ্রামের আবাসন নিয়েও মহাপরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।’
এর আগে, বে-টার্মিনাল প্রকল্প উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম।
এ সময় চবক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এখন কর্মসংস্থান দরকার। আর এই জায়গা (বে-টার্মিনাল) সরাসরি ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ইনডিরেক্ট লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এটি আমাদের নতুন জেনারেশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘বে-টার্মিনাল ইনিশিয়ারি আমরা চারটা পরিকল্পনা নিয়েছি। এরমধ্যে একটি পিএসএ ও অন্যটি ডিপি-ওয়ার্ল্ড করবে। আর আমরা একটি মাল্টিপারপাস পোর্ট করবো। ওটা ওপেন টেন্ডারে যাবো। আরেকটি পরবর্তী প্রয়োজন আরেকটি এনার্জি টার্মিনাল আমরা প্ল্যানে রেখেছি।’
বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিদর্শনে গিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘কত এফডিআই এলো সেটা দেখার বিষয় না; ওটা সেকেন্ডারি ইস্যু। প্রাইমারিভাবে আমরা কি পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবো, সেটাই আমাদের মূলমন্ত্র।’
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুল এমবিশনের মধ্যমণি চট্টগ্রাম। আমরা বাংলাদেশকে যেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করছি; সেটির সেন্টার পিস হচ্ছে চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের এই সেন্টার পিসের একটা অংশ আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি। এটা আরও অনেক এফিশিয়েন্ট হবে। সাথে আরো অনেকগুলো পোর্ট বেরিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম সত্যিকারের কমার্শিয়াল সিটি হবে। আশা করছি, এ কর্মযজ্ঞ আরও বাড়বে।’
লালদিয়া চর, বে-টার্মিনাল প্রকল্প ও এনসিটি পরিদর্শনের সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

