চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিনকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ৫ মামলায় গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালত পুলিশের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
গত ১০ মে দিবাগত রাতে নগরের বহদ্দারহাট বারইপাড়া এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার হয় নগরের সদরঘাট থানাধীন মাঝিরঘাট রোডের মো. শফি মাঝির মেয়ে শারমিন আক্তার তামান্না।
বাকলিয়ায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করে তামান্নাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরদিন দুপুরে তামান্নার পক্ষে তাঁর আইনজীবী পুলিশের কাছে জামিন আদেশের কাগজপত্র উত্থাপনের পর জোড়া খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখিয়ে ছেড়ে দেয় বাকলিয়া থানা-পুলিশ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩০ দিনের একটি আটকাদেশে বায়েজিদ থানা-পুলিশ পরে তামান্নাকে হেফাজতে নেয়। এর পর থেকে তামান্না চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন।
নগর পুলিশের এডিসি (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন বলেন, নগরীর চান্দগাঁও থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে পাঁচজন নিহত হওয়ারর মামলায় তামান্না শারমিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত বছরের জুলাই-আগস্টে চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিতে মারা যান হৃদয় চন্দ্র তরুয়া, মো. মাহিন, তানভীর সিদ্দিকী, শহীদুল ইসলাম ও ফজলে রাব্বি। এই ঘটনায় করা পৃথক পাঁচ মামলায় তামান্না শারমিনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
এর আগে গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছিটিয়ে সাজ্জাদকে জামিনে ছাড়িয়ে আনার হুমকি দিয়ে ভাইরাল হন তামান্না। এরপর নগরীর বাকলিয়ায় সংঘটিত জোড়া খুনের মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

