চাকরির প্রলোভনে কলেজ পড়ুয়া নারী কর্মীকে ‘কু-প্রস্তাব’দেওয়ার অভিযোগে রাঙামাটি শহরের কসমস হোটেল ও মায়ের দোয়া নার্সারীর মালিক সালাউদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট ১৯ বছর বয়সী নারী কর্মীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির পর সোমবার একটি কল রেকর্ডও ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (৩০ জুন) বিকালে অভিযুক্ত রেন্টুরেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন ওই নারী কর্মী।
একইদিন মধ্যরাতে রেস্টুরেন্ট মালিককে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গেল মে মাসের ২৫ তারিখে কসমস হোটেল ও রেষ্টুরেন্টের মালিক সালাউদ্দিনের অনুরোধে এক বন্ধুর মাধ্যমে উক্ত রেষ্টুরেন্টে যায় ভুক্তভোগী নারী ও আরেক পুরুষ সহযোগি।
তারা উভয়েই সালাউদ্দিনের কাছে নিজেদের সিভি দিয়ে চাকরিতে যোগদানের অনুমতি পায়। সেসময় দুয়েকদিন তাদের কাজ দেখে বেতন নির্ধারণ করার কথা জানায় সালাউদ্দিন।
রেষ্টুরেন্টে ওয়েটারের চাকরিতে যোগদানের দিনই সালাউদ্দিন উক্ত ভুক্তভোগী নারীকে নানান ধরনের অশ্লীল অঙ্গিভঙ্গি করে তাকে কু প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে সালাউদ্দিন মেয়েটিকে মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা বললেও মেয়েটি পরেরদিন থেকে চাকরি করবে না বলে জানিয়ে দেয়।
একদিন পরেই সালাউদ্দিন মেয়েটিকে ফোন করলে মেয়েটি বেতন কমের কারনে চাকরি করবেনা বলে সালাউদ্দিনকে জানিয়ে দেয়।
এসময় সালাউদ্দিন মেয়েটিকে তার ভালোবাসার আহবান জানিয়ে বলে, আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারলে মাসে আরো ৫ হাজার টাকা বেশি পাবা। প্রতিমাসেই আমি সেই টাকাটা তোমাকে দিয়ে দিবো।
এসময় কুপ্রস্তাব পাওয়ায় মেয়েটি সাথে সাথেই সালাউদ্দিনকে জানিয়ে দেয় এটা সম্ভব না। এটা গুনাহের কাজ।
এতে সালাউদ্দিন মেয়েটিকে আরো মোটিভেশন করার চেষ্ঠা করলে মেয়েটি সালাউদ্দিনের সকল কথাবার্তা মুঠোফোনে রেকর্ড করে নেয়।
এরপর ভুক্তভোগী বিষয়টি তার বন্ধুদের জানালে তারা সালাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চেয়ে বিষয়টির শেষ টানতে বললে সালাউদ্দিন তাদেরকে হুমকি দিতে থাকে।
এক পর্যায়ে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও না পেরে অবশেষে ভুক্তভোগীের বন্ধুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ২০ লাখ টাকা খরচ করে দেখে নেবে বলেও হুমকি দেয়।
সালাউদ্দিনের এমন হুমকির পরবর্তীতে বিষয়টি নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোষ্ট করে ভুক্তভোগীের বন্ধুরা।
এতে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে এবং ভুক্তভোগীের বন্ধুদের কর্মস্থলে মানুষ পাঠিয়ে হুমকি দিতে থাকে কসমস রুপটপ রেষ্টুরেন্টের মালিক সালাউদ্দিন।
অবশেষে নিজেদের অনিরাপদ ভেবে এবং সালাউদ্দিনের হুমকি বিষয়টি এবং যৌন হয়রানীর বিষয়টি উল্লেখ করে সোমবার রাতে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগী।
অভিযোগর প্রাপ্তির সাথে সাথেই বিষয়টি প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে সালাউদ্দিনকে আটক করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাহেদ উদ্দিন এই বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান।

