27.1 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামচট্টগ্রামে সন্ত্রাসী আস্তানায় র‌্যাব-পুলিশের হানা,বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১১

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী আস্তানায় র‌্যাব-পুলিশের হানা,বিপুল অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১১

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন ফরিদা পাড়ায় ‘দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী’ শহিদুল ইসলাম (বুইস্যা)র আস্তানায় যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব-৭ ও পুলিশ।

সোমবার (২১ জুলাই) আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই এলাকায় দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ টিম এদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালায়।

অভিযানে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় যৌথ টিম। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র এবং থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মো. বুরহান উদ্দিন (চাঁদপুর), মো. মারুফ (চান্দগাঁও), মো. আল-আমিন (লংগদু), মো. মিজানুর রহমান (উখিয়া), মো. রোকন উদ্দিন (চান্দগাঁও), মো. আলী আহমদ সোহান (বোয়ালখালী), শান্ত মজুমদার (পটিয়া), মো. অন্তর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), রিবো পাল (লোহাগাড়া), মো. রাহাত (ভাসানচর) ও মো. ফরহাদ (বহদ্দারহাট)।

পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টার সময় শহিদুল ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে প্রকাশ্যে শটগান ও পিস্তল প্রদর্শন করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায়।

এমন সংবাদ পেয়ে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল এবং র‍্যাব-৭ (সিপিসি-৩) যৌথভাবে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পেছনে তৃতীয় তলায় থাকা গোপন সন্ত্রাসী আস্তানা ও টর্চার সেলে অভিযান চালায়।

অভিযানে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র: কুড়াল, রামদা, চাকু, ড্রেগার, করাত, হেচকো ব্লেড, স্ক্রু ড্রাইভার, কাঁচি, প্লাস ও গোলাবারুদ: তাজা গুলি, কার্তুজ, ব্যবহৃত খোসা এবং মাদক: ১০ লিটার চোলাইমদ, ১০টি বিয়ার ক্যান, ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ২০০০টি গাঁজা পুরিয়ার খালি কাগজ, ডিজিটাল ওজন মেশিন উদ্ধার করা হয়।

তাছাড়া ওই আস্তানায় (টর্চার সরঞ্জাম) হিসেবে ইলেকট্রিক শক মেশিন (Made in USA), হিটগান, রশি (২০ ফুট) এবং সিসি ক্যামেরা, টাকা গোনার মেশিন, কাঁধ ব্যাগ ও প্লাস্টিক জিপার প্যাকেট পাওয়া যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এই সন্ত্রাসী চক্রটি চট্টগ্রাম নগরীতে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ত্রাস সৃষ্টি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। এদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানাসহ সিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ১১ ব্যক্তি ‘সন্ত্রাসী’ শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইসার সহযোগী। যে বাসা থেকে গুলি ও দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, সেটিকে তাঁরা ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

র‍্যাব চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। তাঁদের অন্য সহযোগীদের ধরতে অভিযান চলছে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যাযর পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জামিনে থাকা সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে টেম্পো ও শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইশ্যা’র বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এসময় কেউ হতাহত হননি।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলামের একটি আস্তানার সন্ধান পায়। সেখানে থানা থেকে লুট হওয়া দু’টি গুলি ও গুলির খোসা পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, আস্তানাটিকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। যারা এসব সন্ত্রাসীর চাহিদামতো চাঁদা কিংবা টাকা দিতেন না, তাদের সেখানে নিয়ে নির্যাতন করা হতো।

আস্তানায় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক, প্লায়ার্স, রামদা, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। অভিযানে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তাছাড়া সন্ত্রাসী ইসমাইল ও শহিদুলকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে জানালেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম। বলেন, ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে ১৯টি ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে।