অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
গতকাল (শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান তিনি।
এছাড়া দেশের যেসব মেডিকেল কলেজ সরকার নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হবে না সেসব কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার চিকিৎসক ও ১২ হাজার নার্সের সংকট রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘ডাক্তারদের কোনো দল থাকতে পারে না।’ এছাড়া তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ৩০০ ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার।
ডিপ্লোমা নার্সদের দক্ষ করে তুলতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিপ্লোমা নার্সদের জাপানে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে সরকার, যা চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, চট্টগ্রামে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা অপ্রতুল। সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে—এটা চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
নূরজাহান বেগম বলেন, বিপর্যস্ত একটা অর্থনীতি নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অগ্রাধিকার অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে সরকার অনেক কাজ করছে—৩৩ প্রকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ও হার্টের রিংয়ের দাম কমানো হয়েছে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো ঢাকাকেন্দ্রিক। চট্টগ্রামে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা বা বিশেষায়িত হাসপাতাল করার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এটি চিকিৎসা সেবায় চট্টগ্রামবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। করোনাকালীন রোগীদের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও উপদেষ্টার একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ও সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

