চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে একটি কনসার্টে ‘শেখ হাসিনা ও জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার জেরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও শটগান দিয়ে গুলি ছোড়ে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার রাত সাড়ে নটার দিকে নগরীর খুলশী থানাধীন জিইসি কনভেনশন সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন মোহাম্মদ শরীফ ও মোহাম্মদ নাজিম। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে শরীফের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি হাসপাতালের দুই নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানাতে পারেনি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, একটি মোটরসাইকেল কোম্পানি শনিবার জিইসি কনভেনশনে ব্যবসায়িক প্রমোশনাল কর্মসূচির অংশ হিসাবে কনসার্টের আয়োজন করে।
সকাল ১১টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনভর সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকা থেকে আসা একটি ব্যান্ডদল গান শুরু করে।
রাত ৯টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ করতে চাইলে বাধে গণ্ডগোল। উঠতি বয়সের তরুণরা রাতভর গান শোনার আবদার করে। এর মধ্যে ব্যান্ডদল তাদের জিনিসপত্র গোছানোর উদ্যোগ নিলে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত তরুণরা চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আয়োজকদের ওপর চড়াও হয়।
রনি নামে এক দর্শক জানান, ঢাকা থেকে আসা ব্যান্ডদল আর্টসেল গান পরিবেশন করছিল। এ সময় একটি পক্ষ পেছন থেকে জয় বাংলা ও শেখ হাসিনার নামে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে।
এ নিয়ে অপর পক্ষ প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সাধারণ দর্শকরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাইরে থেকে অ্যাকশন শুরু করে। বাইরে থেকে শটগান দিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে হলের ভেতর প্রবেশ করে। এ সময় দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের নাম মোহাম্মদ নাজিম ও মোহাম্মদ শরীফ।
তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ দর্শকরা জিইসি কনভেনশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে মো. শরীফ খুলশী থানার ডেবারপাড় এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে। চমেক হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, শরীফের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) শ্রীমা চাকমা খুলশি বলেন, হোন্ডা আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান ছিল জিইসি কনভেনশন হলে। ওই অনুষ্ঠানের একটি অংশ ছিল কনসার্ট। আয়োজকরা কনসার্টের অনুমতি নেননি।
একপর্যায়ে সেখানে উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবক ও তরুণ ভাঙচুর চালায়। পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে লাঠিচার্জ করে এবং ৮ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, জিইসি মোড় এলাকাটি ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত। এখানে ছাত্রলীগের প্রভাব অনেক বেশি। ওমরগণি এমইএস কলেজ, লালখান বাজার ও জিইসি মোড় এলাকা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত।
মোটরসাইকেল কোম্পানি কনসার্টের আয়োজন করলেও সেখানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী প্রবেশ করে। সুযোগ বুঝে তারা জয় বাংলা ও শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দিয়ে নিজেদের জানান দেয়।

