28.1 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামচট্টগ্রামে নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করা ব্যক্তি গ্রেফতার

চট্টগ্রামে নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করা ব্যক্তি গ্রেফতার

রাজু চৌধুরী : চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার পাহাড়তলী এলাকায় ভোটের সময় প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে ‍গুলি করা সেই যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই পিস্তলের ছবি আর তার কাছ থেকে উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলটি ঘটনার সময় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রে কি না এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি র‌্যাব।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার শামীমের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। সেই মামলায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তিনি ঘটনার পর মামলা হলে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে আত্মগোপনে যান। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তার অবস্থান নিশ্চিত করলে তিনি সেটি বুঝতে পেরে অন্য স্থানে আত্মগোপনের জন্য সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এর আগেই সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।’

সে কার পক্ষে কাজ করেছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন সন্ত্রাসীর পরিচয় সে একজন সন্ত্রাসী। গ্রেফতার হওয়া শামীমের পরিচয় সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজ। সে বিভিন্ন সময় অর্থের বিনিময় ভাড়ায় খেটে বিভিন্ন অপকর্ম করেছে। আমরা তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। সে মূলত কার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে ভোটের দিন অপকর্ম বা এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছে—এ সংক্রান্ত তথ্য আমরা যাচাই-বাছাই করছি। নির্বাচনের দিন সে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছেন এবং দু’জনকে গুরুতর আহত করেছেন। সেখানে ভিকটিম যে মামলা দায়ের করেছেন সেখানে উল্লেখ আছে, তিনি (শামীম) স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অর্থাৎ ফুলকপি মার্কার প্রার্থীর (মঞ্জুর আলম) পক্ষে কাজ করছিলেন। এই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমরা তদন্ত করছি।’উক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৭ এর যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন কুমিরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা তাকে গ্রেফতার করে । তার আগে সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর অধিনায়ক কর্নেল মো. মাহাবুব আলম। তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে অবস্থান করছিল শামীম। পরে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টায় ছিল এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গ্রেফতার হওয়া শামীম আজাদ মুন্না মিরসরাই থানার সায়েরখালী গ্রামের আবুল কালাম আজাদের পুত্র। সে নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজ ‘ছাত্রলীগের কর্মী’ ব্লেড শামীম নামে তাকে এলাকার লোকজন চেনেন। একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্মাতক সম্পন্ন করে। শামীম আজাদ চট্টগ্রামের মিরসরাই এর স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকায় বসবাস করে আসছে, দীর্ঘদিন যাবৎ খুলশী ও তার পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় তার সহযোগীদের নিয়ে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিল বলে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধ সংক্রান্তে ৫টির অধিক মামলা রয়েছে এবং এসকল মামলায় ৩ বার কারাভোগ করে।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তার কাছে যে বিদেশি পিস্তল পাওয়া গেছে। সেটিই ভোটের সময় সে গুলিবর্ষণে ব্যবহার করেছিল কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন দু’জন। তারা হলেন, শান্ত বড়ুয়া (৩০) ও মো. জামাল (৩২)। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য যে , রোববার (৭ জানুয়ারি) ভোটগ্রহণ শুরুর পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে চট্টগ্রাম-১০ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মনজুর আলমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এম মনজুর আলমের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে থেকে শামীমকে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে ভোটগ্রহণে সমস্যা হয়নি।