28.8 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদঅর্থ-বাণিজ্যতৈরি পোশাকশিল্পে নতুন এক রূপান্তরের ঢেউ লেগেছে

তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন এক রূপান্তরের ঢেউ লেগেছে

অর্থনীতি ডেস্ক :

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন এক রূপান্তরের ঢেউ লেগেছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের জন্য এক দশকের বেশি সময় ধরে চেষ্টা চলছে।

সেই চেষ্টায় পুরোপুরি সফলতা না এলেও অগ্রগতি আছে। বেশ কিছু কারখানা এখন ভ্যালু অ্যাডেড বা বেশি দামের বৈচিত্র্যময় তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে।

আবার প্রচলিত বাজারের ওপর অতিনির্ভরতাও কাটতে শুরু করেছে। রপ্তানিতে নতুন বাজারের হিস্যা বাড়ছে। এতে তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন এক রূপান্তরের ঢেউ লেগেছে।

সদ্য বিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) অপ্রচলিত বাজারে (ভারত ছাড়া) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার বাইরে দেশের পোশাক রপ্তানি গন্তব্যগুলো অপ্রচলিত বাজার হিসেবে বিবেচিত হয়।

আগামী দিনে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ)।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে ৮১৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২২-২৩ বছরের ১১ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৭৬৯ কোটি ডলারের পোশাক।

কিন্তু গত অর্থবছরের ১১ মাসে ভারতে দেশের পোশাক রপ্তানি ২০২২-২৩ বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ৭২ কোটি ৮৮ লাখ হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৯৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের পোশাক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী মোট রপ্তানি আয়ের ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ এসেছে নতুন বাজার থেকে। সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি আয় ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।

গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ খাতে আয় হয়েছে মোট ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, আমরা অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ভবিষ্যতে বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদী। কারণ রপ্তানিকারকরা ওই সব বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ভারত সরকার কিছু রাজ্যে তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগের ওপর বিশাল প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, যাতে বৈশ্বিক বাজারে আরও বেশি অংশ নেওয়া যায়। সরকারি সহায়তায় ভারতীয় উদ্যোক্তারা ইতোমধ্যে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করেছে।

যদিও ইইউ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মতো প্রধান বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লড়াই করছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৬৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আয় আগের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৭৪৭ কোটি ডলার হয়েছে।

অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে জাপান থেকে। দেশটি থেকে আয় হয়েছে ১৪৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা আগের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১৪৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে অস্ট্রেলিয়ায় পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ১১৮ কোটি ডলার হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১০৬ কোটি ডলারের পোশাক।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৫৭ কোটি ২৮ লাখ ডলারের। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ১০ ডলার।

গত অর্থবছরের ১১ মাসে রাশিয়ায় তৈরি পোশাক রপ্তানি ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ৪৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার হয়েছে। চীনে রপ্তানি ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ৫ লাখ ডলার হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩৪ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ৩৬ কোটি ৮৯ লাখ ডলার হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ৫৮ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।