27.1 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামস্ত্রীকে যৌতুকের জন্য বেধড়ক পেটাল স্বামী, অতঃপর....

স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য বেধড়ক পেটাল স্বামী, অতঃপর….

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় ফরিদা নামক এক নারীকে প্রাইভেট কার কিনতে যৌতুকের টাকার জন্য বেধরক পিটিয়েছে পাষণ্ড স্বামী।

এমন অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) হালিশহর থানায় স্বামী এজাজুল বারী চৌধুরীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন।

মামলার পর নগরের হালিশহরের একটি বাসা থেকে স্বামী এজাজুল বারী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে হালিশহর থানা পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সবুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ফরিদা ও বারী। তাদের পরিবারে ওমর বিন এজাজ নামে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে শিশু সন্তান আছে।

বিয়ের কয়েক বছর পর উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনসহ প্রাইভেট কার কিনে দিতে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেন। বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিনকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর স্ত্রী-সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি বারী।

পরে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে এ সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামী এজাজুল ভুক্তভোগী ফরিদার বাবার বাড়ি সীতাকুণ্ডে গিয়ে যৌতুকের জন্য ১০ লাখ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং ফরিদা ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে।

এসময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন ছুটে এলে কৌশলে পালিয়ে যান এজজাজুল। পরে তাদের ছেলের শারীরিক অসুস্থার খবর পেয়ে ফরিদা ও ছেলেকে নিয়ে মঞ্জুর ভিলার ভাড়া বাসায় যেতে বলেন।

তার কথা মত গত বুধবার ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে নয়টার সময় ছেলেকে নিয়ে সেখানে যাই ফরিদা। সেখানে যৌতুকের টাকার জন্য আবার চাপ দেওয়া শুরু করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে এলাপাতাড়ি কিল, ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করেন। সেখান থেকে কৌশলে রক্ষা পেয়ে চিকিৎসা নিতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যান বলে ভুক্তভোগী ফরিদা অভিযোগে উল্লেখ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সবুজ বলেন, ফরিদা ইয়াসমিন নামে এক ভুক্তভোগী তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। একই দিন রাত ১১টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।