25.7 C
Chittagong
শনিবার, ২ মে ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদঅর্থ-বাণিজ্যইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের লাভ ক্ষতি

ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের লাভ ক্ষতি

পূর্ববার্তা প্রতিবদেন

মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপরে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ইরান যুদ্ধের ফলে বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে চলেছে। বাংলাদেশও এই সংকট দৃশ্যমান। তবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তেলের ব্যবহার সিমীত করলেও বাংলাদেশে সে রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই খরচ কমানোর জন্য কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা আশা করছে যে যদি ওইসব পদক্ষেপ নিয়ে যুদ্ধের কারণে তাদের ওপরে এসে পড়া অর্থনৈতিক প্রভাব দ্রুত সামলাতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর পরেই ভিয়েতনামে ডিজেলের দাম ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার সবাইকে বলছে, যদি সম্ভব হয় তাহলে বাড়ি থেকেই কাজ করতে।

ফিলিপিন্স ৯৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেলই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্যান্য সরকারি কর্মচারীরা এখন সপ্তাহে চার দিন কাজ করছেন।

একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে পাকিস্তানেও। তবে ব্যাংক কর্মচারীদেরও সেখানে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেখানেই সম্ভব, সেখানে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে অনলাইনে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ টেলিভিশনের প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন যে দেশের জ্বালানির মজুদ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে তেল খরচ করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা করতে শুরু করেছে, সরকারকে তার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পেট্রোল পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণও চালু হয়েছে — গাড়ির জন্য দিনে ১০ লিটার, আর মোটরসাইকেলের জন্য মাত্র দুই লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে।

একজন ফসলের ক্ষেতে সার দিচ্ছেন

তবে যুদ্ধের পরিণতি শুধুই জ্বালানির ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

বিশ্বজুড়ে কৃষকরা তাদের জমিতে যে সার ব্যবহার করেন, তার সরবরাহ বিঘ্নিত হলে খাদ্য নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

মি. ক্যুইলিয়াম বিবিসি নিউজকে বলেছেন, “সার উৎপাদনে যে ইউরিয়া ব্যবহৃত হয়, তার ৩০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজে করে যায়। অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পেট্রোকেমিকাল তৈরি হয়, তা থেকে ইউরিয়া আসে। অর্থাৎ আপনি যদি বিশ্ব বাজার থেকে ৩০ শতাংশ ইউরিয়া যদি সরিয়ে নেন, তাহলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব তো পড়বেই।”

বিশ্বের অন্যতম সব থেকে বড়ো গ্যাস রফতানিকারক ও সারের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া উৎপাদন করে যারা, সেই ‘কাতারএনার্জি’র শোধনাগারে হামলার পরে তারা জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন আর সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

মি. ক্যালসিয়াম বলছেন, “খাদ্য নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি এসবের ওপরে প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে এখন থেকে আরও ছয় থেকে নয় মাস পরে”।

“এখনই না হলেও, কৃষকদের কাছে যখন সার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়বে, ফসল বাঁচানো শক্ত হয়ে উঠবে, তখন আমরা একটা সুদূর প্রসারী প্রভাব দেখতে পাব”।