31.3 C
Chittagong
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকপাঁচ কিন্তুতে দাড়িয়ে আছে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক

পাঁচ কিন্তুতে দাড়িয়ে আছে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক

পূর্ববার্তা প্রতিবেদন

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বা ‘রিসেট’ (Reset) লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামীর এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মূলত নিচের পাঁচটি প্রধান কারণের ওপর নির্ভর করছে:
নিরাপত্তা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন: ভারতের জন্য প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা। অতীতে বিএনপি শাসনামলে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে বলে ভারত মনে করে। ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে বিএনপিকে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘রেড লাইন’ বা শর্তগুলোর প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতে হবে।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতা: ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের এশিয়ার বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং বাংলাদেশ ভারতের দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বিচ্ছিন্ন থাকা দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর বিধায়, সরবরাহ চেইন পুনরুদ্ধার এবং বাণিজ্যিক করিডোর সচল রাখা সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিট সুবিধা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহযোগিতা বজায় রাখা এবং বর্ধিত কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়াই হবে নতুন সরকারের সাথে সম্পর্কের অন্যতম প্রধান নির্ধারক।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য: বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের জন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু। একইসাথে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে বাংলাদেশ যাতে ভারতের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে থাকে, সেটিও একটি বড় কারণ।
পানি বণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা: তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি। বিএনপি এই ইস্যুগুলোতে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য সমাধান আশা করে, যা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নির্ধারণ করবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিবাচকভাবে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির সম্পর্কের ধরন এবং অতীতে একে অপরের প্রতি থাকা ‘ঐতিহাসিক অবিশ্বাস’ কাটিয়ে ওঠা হবে এই সম্পর্কের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।সূত্র বিবিসি