33.2 C
Chittagong
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদআইন আদালতব্যবসায়ীদের হাজার কোটি টাকা লুটপাটের হোতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদের অজানা অধ্যায়

ব্যবসায়ীদের হাজার কোটি টাকা লুটপাটের হোতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদের অজানা অধ্যায়

পূর্ববার্তা প্রতিবেদন

১/১১ এর সময় চট্টগ্রাম ঢাকার ব্যবসায়ীদের গে্রফতার রিমান্ডের ভয় দেখিলে কোটি টাকা লুটপাট করে নিতেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ।

টাকার পাহাড় সরাতে না পেরে হামিম গ্রুপের ১০৯ কোটি এবং এস আলম গ্রপের ৮ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে নিজেকে সৎ অফিসার দেখানোর নাটকও করেছিলেন ।

বাংলাদেশে প্রায় ১৯ বছর আগে বহুল আলোচিত ‘ওয়ান ইলেভেনে’র সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার রাতে তাকে তার বারিধারার বাসা থেকে আটকের পর ঢাকার পল্টন থানায় মানবপাচারের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম।
“তার বিরুদ্ধে ফেনীতে ছয়টি ও ঢাকায় পাঁচটি মামলার তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে ফেনীতে তিনটি মামলা বিচারাধীন। উনি পলাতক থাকায় আদালত সেখানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেছে। অন্য মামলাগুলোরও আমরা তদন্ত করছি,” এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন মি. ইসলাম।
এদিকে, মি. চৌধুরী আটক হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক থেকে শুরু করে অনেকেই ‘ওয়ান ইলেভেন’ ইস্যু সামনে এনে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন।
তাদের অনেকেই এখনকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওই সময়ে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ করে সেজন্য মি. চৌধুরীকেই দায়ী করছেন।ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এ প্রশ্নও উঠছে যে, এ গ্রেফতারের মাধ্যমে বিএনপি ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নিতে শুরু করলো কী-না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারিতে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়টিই ‘ওয়ান ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ওয়ান-ইলেভেন সংক্রান্ত বই ‘এক-এগারো’র লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ওয়ান ইলেভেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তখনকার প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমদের প্রধান উপদেষ্টার পদ এবং তার উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের পদত্যাগের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ।
ওই সময় আরও তিনজন সেনাকর্মকর্তা ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।
তারা হলেন – তখনকার নাইন ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তখনকার ডিজিএফআইয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজি ফজলুল বারী ও তখনকার ডিজিএফআইয়ের আরেকজন কর্মকর্তা পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এটিএম আমিন।
এর মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়া অন্যদের কেউই দীর্ঘকাল ধরে দেশে নেই।
যদিও ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেই ২০০৮ সালের জুনেই মি. চৌধুরীকে সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার করে পাঠানো হয়।
এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দুই বার তার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিল।
যদিও মি. চৌধুরী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দেশ ছাড়ার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটকে ভূমিকা রেখে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন। সূত্র বিবিসি পূর্ববার্তা / এআর