চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। বন্দরে জাহাজ জট তৈরি হয়েছিল আগেই কনটেইনারবাহী গাড়িচালকদের ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে। এর ওপর নতুন করে যুক্ত হয়েছে কাস্টমস কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কলমবিরতি কর্মসূচি।
ফলে একদিকে জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে পারছে না, অন্যদিকে জাহাজ থেকে নামানো কনটেইনারগুলোও পড়ে থাকছে শুল্কায়ন না হওয়ার কারণে।
গতকাল শনিবার (২৪ মে) পর্যন্ত বন্দরে জেটিতে ভেড়ার অপেক্ষায় ছিল ২২টি কনটেইনারবাহী জাহাজ।
জোয়ারের সময় ৫টি জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো হলেও এখনও অপেক্ষায় আছে ১৭টি জাহাজ, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ হাজার একক কনটেইনার। অথচ বন্দর চত্বরে স্থানসংকুলান রয়েছে বড়জোর ১০ হাজার কনটেইনারের জন্য।
কলমবিরতির প্রভাব:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারির প্রতিবাদে ১৪ মে থেকে কাস্টমস কর্মকর্তারা কলমবিরতি পালন করছেন।
যদিও কর্মসূচিতে কেবল আমদানি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে এর প্রভাব পড়ছে সব কার্যক্রমেই—শুল্কায়ন, পরীক্ষণ, খালাসসহ সব কিছুই প্রায় অচল হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শনিবার বেলা তিনটায় দেখা যায়, কর্মকর্তাদের কক্ষে তালা ঝুলছে, আর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা নথিপত্র হাতে অপেক্ষা করছেন—কিন্তু কার্যক্রম চলছে না।
এতে করে বন্দরে খালাসযোগ্য কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে বৃহস্পতিবার ৪৩ হাজারে পৌঁছায়।
শুক্রবার কর্মসূচি না থাকায় কিছুটা খালাস হলেও শনিবার আবার তা বেড়ে যায়, এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, রোববার শেষে সংখ্যা আরও বাড়বে।
রপ্তানি ও শিল্পখাতের সংকট:
সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার আগে যেসব রপ্তানি কার্যক্রম শেষ করতে হবে, সেগুলোর কাঁচামাল এখন বন্দরে আটকে আছে।
বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব জানান, কাস্টমসের কর্মসূচি পোশাক শিল্পকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ঈদের ছুটি সামনে থাকায় সময় সংকট আরও বাড়ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু কাস্টমস ও পরিবহন খাতের কর্মসূচির প্রভাবে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”
পরিবহন ধর্মঘট, কাস্টমসের কর্মবিরতি ও কর্মসূচির একযোগে প্রভাবে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এতে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত রপ্তানি-বাণিজ্য পড়েছে চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

