পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাইনী নদীতে ও কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকার পুকুরের পানিতে ডুবে মো. সাইমন এবং হাবিবুর রহমান নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার পৃথক সময়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা দুটি ঘটে।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাইনী নদীতে পড়ে মো. সাইমন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশু দীঘিনালা উপজেলার আল–কোরআন একাডেমির ছাত্র এবং কবাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ মিলনপুর এলাকার মো. খোরশেদ আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে স্কুল ছুটি হওয়ার পর সাইমন তার ছোট ভাইসহ নদীর পাশে তাদের চাচার সাথে দেখা করতে যাচ্ছিল।
হাঁটার সময় ছোট ভাই সাইমের একটি জুতা নদীতে পড়ে গেলে সাইমন সেটি তুলতে গিয়ে পানিতে পড়ে স্রোতে ভারসাম্য হারিয়ে তলিয়ে যায়। ছোট ভাই সাইম তখন আতঙ্কে আশেপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় মাইনী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করি। তবে তখন সে আর বেঁচে ছিল না।
অপরদিকে একই দিন বিকেল ৫টার সময় মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের একটি পুকুরে ডুবে হাবিবুর রহমান নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুটি ওই ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকার ওমান প্রবাসী মাঈন উদ্দীনের ছেলে।
মৃত শিশুটির স্বজনরা জানায়, শিশুটির মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সে বাইরে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে দেখতে না পেয়ে আশেপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবার।
একপর্যায়ে বাড়ির পাশে পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আবু হায়দার জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। বাড়ির পাশের খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

