চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)র তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিনকে নগরের বাকলিয়ায় একসেস রোডে গত ৩০ মার্চ সংঘটিত জোড়া খুনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন-১ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকি এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল বলেন, বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় ওই মামলার এজাহার নামীয় আসামি তামান্নাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করি। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১০মে নগরের চান্দগাঁও বারইপাড়া এলাকা থেকে তামান্না শারমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বাকলিয়ায় জোড়া খুন, হত্যার হুমকির মামলা রয়েছে।
এছাড়া তামান্নাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে পাঁচজন নিহতের মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখিয়েছেন আদালত।
জোড়া খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে তামান্নার স্বামী সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে সাজ্জাদকে জামিনে ছাড়িয়ে আনার হুমকি দিয়েছিলেন তার স্ত্রী তামান্না।
গত ৩০ মার্চ রাতে রূপালি রঙের একটি প্রাইভেট কার কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডের দিকে আসছিল।
গাড়িটি শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল সেটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে।
প্রাইভেট কারের ভেতর থেকেও মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে গাড়িতে থাকা দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বখতিয়ার হোসেন (৩০) ও মো. আবদুল্লাহ (৩২)। তারা ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গাড়িতে সরোয়ারও ছিলেন, তবে তিনি বেঁচে যান।
এ ঘটনায় ১ এপ্রিল বাকলিয়া থানায় নিহত মোহাম্মদ মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন তামান্নাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন।

