দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়— ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর। তাদের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে, এরই মধ্যে তফসিলও ঘোষণা হয়েছে।
যদিও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চাকসু (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন এখনো গঠনতন্ত্র সংশ্লিষ্ট জটিলতায় আটকে আছে।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ছয়বার অনুষ্ঠিত হয় চাকসু নির্বাচন। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র সংসদের ভবন এখন কার্যত পরিত্যক্ত; এমনকি এটি এখন ‘ভাতের হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বিতর্কিত গঠনতন্ত্র ও আন্দোলন
চবি প্রশাসন গত ১ আগস্ট ৫৫৯তম সিন্ডিকেট সভায় গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করে, যেখানে প্রার্থিতার বয়সসীমা ৩০ বছর নির্ধারণ করা হয় এবং দপ্তর সম্পাদক পদটি পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এ নিয়ে ছাত্র-সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
১৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল অভিযোগ করে, গঠনতন্ত্রে একটি পদ শুধু পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নারীবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত এই বৈষম্য সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ একাধিক সংগঠনও এই গঠনতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা চাকসু নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকলেও প্রশাসনের ধীরগতির প্রক্রিয়া হতাশাজনক। গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা ও নারী বৈষম্য রয়েছে, যা সংস্কার না হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয়।
বয়সসীমা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ছাত্রদল। তারা বলছে, ৩০ বছর বয়সসীমা থাকলে এমফিল বা পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন না। আবার যদি তারা ভোটাধিকার পান, তবে বয়সসীমা তুলে দেওয়া উচিত।
ছাত্র-সংগঠনগুলোর দাবি
ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা শুরু থেকেই চাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। প্রশাসন যেন আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সদস্য-সচিব রোমান রহমান বলেন, চাকসুর গঠনতন্ত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি এবং বয়সসীমা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু মূল দাবি ছিল তফসিল ঘোষণা।
অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তারিখ ঘোষণা করলেও চবি এখনো তা করেনি। আমরা মনে করি, বড় দুটি ছাত্র-সংগঠনের ইঙ্গিতেই প্রশাসন সময় নিচ্ছে।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির বলেন, আমরা গঠনতন্ত্রের কিছু সংস্কার চেয়েছি। প্রশাসন দ্রুত এই কাজ শেষ করে নির্বাচন আয়োজন করুক।
প্রশাসনের অবস্থান
চাকসু নির্বাচনের প্রধান কমিশনার রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, আমরা প্রতিটি বিভাগে ভোটার তালিকা পাঠিয়েছি।
আশা করছি, দ্রুত তা পেয়ে যাব। পাশাপাশি আচরণবিধি তৈরির কাজও চলছে। এই দুটি বিষয় প্রস্তুত হলে তফসিল ঘোষণা করব। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। নিউজ২৪

