চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মসজিদে কুরআন ক্লাসের আয়োজনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বর্তমান সময়ের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় দলের অন্তত ৬ জন নেতা কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের মোশাররফ আলী মিয়ার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতরা হলেন-যুবদল ছাত্রদলের এনামুল হক, মোহাম্মদ তায়েব ও আজগর হোসেন, ছাত্র শিবিরের নেতা রাকিব ও মোহাম্মদ শওকত। বাকি একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকালে পশ্চিম বাঁশখালী দারুল ইসলাহ মাদ্রাসা মসজিদে কুরআন ক্লাসের আয়োজন করে ইসলামী ছাত্র শিবির। সেখানে বাধা দেন স্থানীয় ছাত্রদল কর্মীরা।
পরে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মী নয়ন ও তানভীরের নেতৃত্বে ১০-১২ জন শিবিরকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসার জন্য সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা মোশাররফ আলী মিয়ার বাজারে জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে চারজন পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এসময় বিএনপি কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয় বলে স্থানীয়রা জানায়। পরিস্থিতি বেগতিক হলে পুলিশ সদস্যরা পালিয়ে গিয়ে উপকূলীয় জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নেন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিকালে শিবিরের কর্মসূচিতে একজনকে জোর করে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

