তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আজ বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দলগুলো হলো-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম শনিবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো শক্তিই নির্বাচন থামাতে পারবে না।
এদিকে শনিবার সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে।’
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।
জনগণের ইচ্ছা জয়ী হবে, কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।’
সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। একদিকে নির্বাচন ঠেকাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে।
অপরদিকে জুলাই সনদ ইস্যুতে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর মুখোমুখী। এ অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রোববার (আজ) বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। দলগুলো হলো-বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি। তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হবে।
এ সময় বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন বিষয়ে সরকারের ভাবনার কথা জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন হওয়ার মতো পরিবেশ আছে। যথাসময়ে নির্বাচন হবে। আমরা শক্তভাবে বলছি, রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শক্তিই নির্বাচন থামাতে পারবে না।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করার মতো পরিবেশ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পরিসংখ্যান নেবেন। গত বছরের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখবেন, পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে কিনা।
আমরা কিন্তু পুলিশকে জানিয়েছি, তারা যেন নিয়মিত পরিসংখ্যান দেয়। আমরা মনে করি, সামনে নির্বাচন হওয়ার মতো যথেষ্ট পরিবেশ আছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আজকের বৈঠকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা দেশের পরিস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরে ঐক্যের আহ্বান জানাবেন। তাদের মধ্যে ঐক্য সম্ভব না হলে কী পরিস্থিতি হতে পারে তাও তুলে ধরবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি :
বিবৃতিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সরকার।
সরকার বলছে-কেবল নুরের ওপরই নয়, এ ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরেও আঘাত বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এ নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে করা হবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে এর বিচার শেষ করা হবে।
বিবৃতে আরও বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হক নুর এবং তার দলের অন্যান্য আহত সদস্যদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রয়োজনে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে। এ সংকটময় সময়ে নুর এবং তার দলের আহত সদস্যরা ও তাদের পরিবারের সঙ্গে পুরো জাতির প্রার্থনা এবং সংহতি রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
২০১৮ সালে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নুরুল হক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন উল্লেখ করে বিবৃতে সরকার বলেছে-একজন ছাত্রনেতা হিসাবে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন, বিভিন্ন মত ও কণ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছিলেন।
চব্বিশের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং হেফাজতে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। নুরের ভূমিকা একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আমাদের জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তার সাহস ও আত্মত্যাগ চিরকাল আমাদের জাতির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
জনবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
বিবৃতে বলা হয়- ‘এই সংকটকালীন অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আহ্বান জানায়।
আমাদের সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং গণতন্ত্রে আমাদের সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।’

