আজ অনুষ্ঠিত হবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘জাতীয় জুলাই সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বিকাল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বসবে এই ঐতিহাসিক আসর।
এতে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টাসহ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এই সনদে স্বাক্ষর করবেন।
অনুষ্ঠানটি দেশের সব টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বিএনপি-জামায়াতসহ প্রায় সব দলের নেতারা অংশ নেবেন তাতে।
তবে যাচ্ছেন না জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কয়েকটি বামদলের অংশগ্রহণও অনিশ্চিত।
সনদের আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা চেয়ে এনসিপি এবং সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারিত না হওয়ায় জামায়াতের স্বাক্ষর নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে।
তবে দুই দলের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
জামায়াত ঘোষণা দিয়েছে, সংস্কারের স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাবে তারা। সই করবে কিনা, তা আজ জানাবে দলটি।
জানা গেছে, গত রাতের সমঝোতা আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। জামায়াত সই করতে রাজি হয়েছে।
ওদিকে নাহিদের বাসায় বৈঠকে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সরকারের তরফে এনসিপিকে বুঝিয়েছেন। এনসিপি সনদে সই করতে নমনীয় হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
এদিকে বাম ধারার চারটি দল স্বাধীনতা ঘোষণাসহ কয়েকটি বিষয় জুলাই সনদে না থাকায় তাতে সই করবে না বলে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে।
তবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গতকালই জানায়, আজ যারা সই করবে না, তাদের জন্য পরে সই করার সুযোগ থাকবে।
এনসিপি সনদ সই করার এই সুযোগ থাকায়, তারা জানিয়েছে তাদের দাবিগুলো পূরণ হলে সংস্কারের পরবর্তী কার্যক্রমে এনসিপি যুক্ত হবে। এবং জুলাই সনদে সই করবে।
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে মতভেদের একটি বড় বিষয় গণভোট, জলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতা।
জামায়াত-এনসিপি নির্বাচনে আগে গণভোট চায়। বিএনপি চায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হোক।
ঐকমত্য কমিশনের মতে, সাংবিধানিক আদেশে জুলাই সনদ কার্যকর করা হবে। এই আদেশের অধীনে হবে গণভোট। পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশন হবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’।
এ অবিধেশনে সংস্কার অনুমোদিত হবে, যা জামায়াত এবং এনসিপির দাবির অনেকটাই কাছাকাছি।
তবে, গণভোটের সময় এখনো নির্ধারণ হয়নি। এটি নির্ধারণ করবে সরকার।
সংবাদমাধ্যমের খবর, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে সাংবিধানিক আদেশ জারি সনদ কার্যকর করে গণভোট করা হবে।
একই বার্তা দিয়ে এনসিপিকে বলা হয়েছে, আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করবে কমিশন।
ইতিমধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কাছে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

