27.2 C
Chittagong
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামহাজারীগলিতে চাঁদার দাবিতে স্বর্ণের দোকানে দফায় দফায় হামলা

অদৃশ্য শক্তির ইশারায় মামলা নিতে গড়িমসি পুলিশের!

হাজারীগলিতে চাঁদার দাবিতে স্বর্ণের দোকানে দফায় দফায় হামলা

হুমকিতে দিশেহারা ওমেক্সের পরিবার

ত্যাজ্য পুত্রের ব্যবসায়ীক লেনদেনের দেনার দায় চাপিয়ে দিয়ে নগদ ৬ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে চট্টগ্রামের হাজারী লেইনস্থ আর এস জুয়েলার্স নামক স্বর্ণের দোকানে কয়েক দফা হামলা ভাঙচুরের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

শুধু তাই নয়, ভয়ভীতি, হত্যা ও মামলার হুমকি ধমকিতে জিম্মি রেখে নিরীহ ব্যবসায়ী ওমেক্স ধরের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অলিখিত নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করেছেন স্বর্ণের কারবারে মাফিয়া ডনখ্যাত যীশু বণিকসহ তার সন্ত্রাসী গ্রুপের লোকজন।

এমন অভিযোগ করে প্রাণ ভয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার দাবি ভুক্তভোগী ওমেক্স ধরের।

এক পর্যায়ে আইনের আশ্রয় নিয়ে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দীর্ঘ সময় ধরে থানার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরলেও অদৃশ্য ক্ষমতা ও টাকার দাপটে থানায় সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগের মামলা লিপিবদ্ধ করতে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ওমেক্স ধর।

ঘটনার বিবরণে ওমেক্স ধর জানান, তাদের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থ সম্পদের লোভে পড়ে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রনেক্স ধরকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন বসুন্ধরা জুয়েলার্স এর মালিক যীশু বণিক।

ওমেক্স প্রতিবেদককে জানান, পিসতুতো ভাই যীশুর কুমন্ত্রণে এবং আমার পিতার অনুপস্থিতে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে আলাদা হয়ে যান বড় ভাই রনেক্স।

এক পর্যায়ে পিতার সাথে অনৈতিক ও শিষ্টাচার বর্জিত আচরণ এবং পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে আঘাত করা ও চৌর্যবৃত্তি, প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং স্বর্ণালংকার আত্মসাতের বিষয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রনেক্স ধরকে ত্যজ্যপুত্র করার সিদ্ধান্ত নেয় বাবা রাজু গোপাল।

এরপরও নানান চেষ্টার পরও শুধরায়নি রনেক্স। এরই মধ্যে বিভিন্ন নীতিভ্রষ্ট লোকজনের সাথে মিশে অত্যন্ত উশৃঙ্খল ও বেপরোয়া জীবন-যাপনের কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ১৬০৬/২০১৯ নম্বর “ত্যাজ্য ঘোষণা সংক্রান্ত হলফনামা” মূলে উক্ত রনেক্স ধরকে ত্যাজ্য ঘোষণা করা হয়।

এরই মধ্যে যীশু বণিকের পাঁতানো ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে প্রতারণার জালে জড়িয়ে পড়েন আমার বড় ভাই রনেক্স।

সম্প্রতি হাজারী লেইন ও রেয়াজউদ্দিনবাজারসহ বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বেশ কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করার অভিযোগে রনেক্সের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা। গ্রেপ্তারও হয় রনেক্স ধর।

তবে সে জামিন পেয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকে আমার পিসতুতো ভাই যীশুর কুলুপ দৃষ্টি পড়ে আমাদের সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর এস জুলেয়ার্স ও সম্পতির ওপর।

পরিকল্পিতভাবে রনেক্স ধর কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের কু প্ররোচনা দিয়ে তাদেরকে ক্ষীপ্ত করে তুলেন যীশু। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা দাবি করে মানসিক চাপ ও বিভিন্ন হুমকি অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ ওমেক্সের।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি রাত পৌণে ৯টার সময় যীশু বণিকের প্ররোচনায় তার শ্যালক অনুপম ও পিকলু বণিকের নেতৃত্বে ১০/১২ জন ব্যক্তি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

এসময় হামলাকারীরা দোকানের জিনিসপত্র এলোপাতাড়ি ছুঁড়ে মারে ও ভাংচুর করে ভীতির সঞ্চার করে। তারা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর এস জুয়েলার্সের বেতনভুক্ত ম্যানেজার সবুজ দত্তকে গুরুতর জখম করে ও মৃত্যু ঘটানোর ভয়ভীতি দেখান।

তাছাড়া তারা হামলার সময় ৬ কোটি টাকা চাঁদা দাবী করে। না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলাইয়া দিবে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেবে বলে হুমকি দেন।

ওমেক্স জানান, হুমকিদাতারা স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন হওয়ায় অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্থ আমার পরিবারের লোকজন। বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কায় আইনের সহায়তা নিতে গত বছরের ২২ জানুয়ারি আদালতে ৩৮৫/৩৮৭/৪৪৮/৫০৬/১৪৩/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করি। (যার সিআর মামলা নম্বর-১৯৫/২৪ (কোতোয়ালি))।

অভিযুক্তরা হলেন, হাজারী লেইনের বাসিন্দা স্বপন বণিক প্রকাশ কালুর ছেলে সুগন্ধা জুয়েলার্স এর মালিক পিকলু কুমার বণিক (৩৭) ও একই এলাকার রতন বণিকের ছেলে অপু জুয়েলার্সের মালিক অনুপম বণিক প্রকাশ অনু (৩৬)সহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন।

আদালতে মামলা দায়েরের পর আরো ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন স্বর্ণের কারবারে মাফিয়া ডনখ্যাত যীশু বণিকসহ হামলাকারীরা। যীশু ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপের লোকজন ওমেক্স এর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অলিখিত নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ওই স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্যও আদালতে একটি পৃথক মামলা দায়ের করেছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার।তবে সাবেক আলোচিত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদকে ম্যানেজ করে তার ক্ষমতার অপব্যবহারে মামলাটি ধামাচাপা দেন মাফিয়া ডন যীশু বণিক। এমন তথ্য প্রতিবেদককে জানান ওমেক্স।

তিনি আরও বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাইয়া জেলে পঁচানোর হুমকি দিয়ে কোন প্রকার থানা পুলিশ বা মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করিলে পরিবার পরিজনকে অপহরণ করে প্রাণে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেন।

ওমেক্স দাবী করেন, উপর্যুপরি হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনে অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পুরোপুরি জিম্মি দশায় পতিত হয়েছে পুরো পরিবার। এমনকি ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করতেও পারছি না।

বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কা আইনের সহায়তা নিতে আদালতে মামলা দায়ের করি। তবে টাকা ও ক্ষমতার দাপটে মামলাটি তদন্তের নামে দীর্ঘ সময় ক্ষেপন করায় অভিযুক্তরা আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠে।

ওমেক্স ধর বলেন, চলমান মামলাকে বৃদ্ধঙ্গুলি দেখিয়ে তারা উল্টো কোতোয়ালি থানায় পৃথক কাল্পনিক একটি অভিযোগ দায়ের করার হুমকি দিতে থাকে।

শুধু তাই নয়, গত ১৭ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে একই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুনরায় হামলা চালায় যীশু বণিকের লোকজন। এসময় দোকানগৃহে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে ৬ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এছাড়াও গত ১৯ অক্টোবর (রবিবার) যীশু বণিকের স্ত্রী রুবি বণিক ওই দোকানে প্রবেশ করে অকর্ত্য ভাষায় গালাগালি করে গলা কেটে নেওয়ার হুমকি দেন। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন ওমেক্স ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে যীশু বণিকের শশুড় রতন কুমার বণিক ও যীশু বণিকের অনুসারীরা। তারা প্রতিনিয়ত বলছে, প্রতি মাসে দশ ভরি স্বর্ণ দিতে হবে, না হয় একসাথে ৬ কোটি টাকা দিতে হবে।

ওমেক্স ধর বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিগণের সাথে আমার কিংবা আমার পরিবারের লোকজনের কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন ও দেনা পাওনা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ত্যাজ্য ঘোষিত রনেক্স ধরের আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বেআইনী ও পেশীশক্তির জোরে হয়রানী, সামাজিক মান-মর্যাদাহানী ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে থানাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দায়ের করার জন্য হামলার ঘটনার বেশ কয়েক দিন হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগটি লিপিবদ্ধ করেননি পুলিশ।

এ বিষয়ে জানার জন্য কোতোয়ালি থানায় কয়েকবার যোগাযোগ করেও মামলা না নেয়ার বিষয়ে পুলিশের কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

ওমেক্সের দাবী অভিযুক্তরা অত্যন্ত ধূর্ত, অসৎ, চাঁদাবাজ, অন্যায়কারী, পরের হক আত্মসাৎকারী, ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী, সন্ত্রাসী লালনকারী এবং বেপরোয়া প্রকৃতির লোক। তারা অর্থ ও গায়ের জোরে ধরাকে সরাজ্ঞান করে। দেশের প্রচলিত আইন কানুন তাদের কাছে একেবারেই অর্থহীন।

এ অবস্থায় সামাজিক অথবা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে এমন কঠিন দুরাবস্থা ও জিম্মিদশা থেকে পরিবারকে মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আকুল আবেদন জানান সহজ সরল ও শান্তিপ্রিয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমেক্স ধর।

এদিকে জুয়েলারি সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে যীশু বণিকের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে প্রতিবেদক। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে নিউজে উল্লেখ করা হবে।