26.9 C
Chittagong
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদরাজনীতিবিএনপির ডাকা অসহযোগে জনগণ সাড়া দেয়নি: কাদের

বিএনপির ডাকা অসহযোগে জনগণ সাড়া দেয়নি: কাদের

ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ডাকা অসহযোগ আন্দোলনে সাড়া না দিয়ে দেশের জনগণ দলটির বিরুদ্ধেই অসহযোগ শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপিকে ডামি দল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা উঁচু গলায় বলতেন আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতারাই পালিয়ে গেলো।

‘এই পলাতক দল আবার এখন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। জনগণ তাদের বিরুদ্ধেই অসহযোগ শুরু করেছে। তার প্রমাণ বাংলাদেশের হাট বাজারে, সাধারণ মানুষের মাঝে পাবেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি। বিএনপি যতই সন্ত্রাস করছে, ট্রেনে আগুন দিচ্ছে, ততই জনগণের কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ডামি উল্লেখ করে ভোট বর্জন ও প্রতিহত করতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিএনপি।

আর এই মুহূর্ত থেকে সরকারকে খাজনা, কর ও বিভিন্ন সেবার বিল না দিয়ে অসহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার গোপন জায়গা থেকে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি একটা ডামি দল। দুর্নীতিবাজদের নিয়ে ভুঁইফোঁড় একটা দল। গণতন্ত্র হত্যাকারী নির্বাচন বিরোধী একটা দল।

‘বিএনপিকে মানুষ অসহযোগ করেছে। একজন তারেক রহমান টেমস নদীর ওপার থেকে নির্দেশনা দিচ্ছে। সাহস থাকলে দেশে ফিরে জনগণের সামনে আসুক। তা না হলে রিমোট কন্ট্রোল নেতাকে জনগণ কোনোদিনই মেনে নিবে না।’

সরকারকে অসহযোগিতা করতে বিএনপির আহ্বানকে ‘অবান্তর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই আমরাও বলবো, যাদের কর ও বিল বাকি, তাদের বিল আদায় করুন। ব্যাংক থেকে যারা লোন নিয়ে দিচ্ছে না তাদের তালিকা করুন। কর ফাঁকিবাজদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে ৭ জানুয়ারি। দেশের বেশিরভাগ দল ভোটে অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টি।

তবে ভোটের তফসিল বয়কট করে সহিংস কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। প্রায় প্রতিদিন হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি ডাকা হচ্ছে। আর এসব কর্মসূচিতে যানবাহনে আগুন দেয়া হচ্ছে। গত ২৮ অক্টোবর থেকে আগুন দেয়া হয়েছে প্রায় ৩০০ যানবাহনে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগিতে আগুন দেওয়া হয়। নাশকতার ওই আগুনে পুড়ে নিহত হন মা, শিশুসহ চারজন। এর আগে নাশকতাকারীরা গাজীপুরে রেল লাইন কেটে ফেললে দুর্ঘটনা পড়েন ট্রেন। সেখানে মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কাল সিলেটে সভাস্থলে যত মানুষ এসেছে, তার থেকেও বেশি মানুষ ছিলো বাইরে। জনসমুদ্র ছিলো। এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে ৭ জানুয়ারি কি হতে যাচ্ছে।

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সন্ত্রাস বন্ধ করুন। তা না হলে জনগণই আপনাদেরকে প্রতিহত করবে। নির্বাচন বন্ধ করার খায়েশ আপনাদের পূরণ হবে না।

‘বিএনপি জামাত যা করছে সেটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হচ্ছে। জনগণও নির্বাচন বিরোধী হামলা প্রতিহত করবে।’

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে কেন – এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৮ তারিখের পল্টন দেখেননি? যে নৃশংসতায় পুলিশ হত্যা করা হলো, সে দায় এড়াবেন কী করে! প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা করেছেন। তখন ফখরুল সাহেব কোথায়? মঞ্চে।

‘তারা কি এ দায় এড়াতে পারবে? বিচার আদালতের অধীনে। চিরজীবন তারা কারাগারে থাকবে, সেটা আমরা বলছি না। কিন্তু তারা আইন ভঙ্গ করে ফৌজদারি অপরাধে জেলে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার তাদেরকে জেলে নেয়নি। তাদের জেলে নিয়েছে আইন। আর আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।’

ভোটের পর সরকার পাঁচদিনও টিকবে না বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান যে মন্তব্য করেছেন, তারও জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ পাঁচ বছরই টিকবে। শেখ হাসিনার জীবনে আপোশ নামক শব্দ নেই, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।