বাংলাদেশের মানুষের জন্য ২০২৫ সালের বছরের শেষ দিনটি ছিল একদিকে শোকাবহ বিপরীতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের।
দেশের প্রথম মহিলা ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ান দেশের সকল স্তরের মানুষকে কাঁদিয়েছে। তারা রাত জেগে পায়ে হেটে এই মহান ব্যক্তির জানাজায় শরিক হয়ে দেশে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
দেশের মানুষ দেখলো সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নীতিতে অটল একজন আপোষহীন রাজনৈতিককে মানুষ কিভাবে তাদের অন্তরে ধারন করেছিল।
দেশের ইতিহাসে এমনকি বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়ের ইতিহাসে কোন ব্যক্তির জানাজায় এতো মানুষের সমাগত হয়েছে কিনা তা আমাদের জানা নাই।
দেশের এই ক্রান্তিকালে খালেদা জিয়ার চির বিদায় জাতীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু মহান এই ব্যক্তির বিদায় কালে রাজনীতিবিদদের এক চরম নির্দেশনা দিয়ে গেল।
১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম দেশের প্রতি জিয়াউর রহমানের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ছিল।
জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার উপর ভর করে ১৯৮১ সালের ৩১ মে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন আবদুস সাত্তার। কিন্তু স্বৈরাশাসক এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার এবং বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হলেও অক্ষুন্ন থাকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের দলের প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর এক বছরের মাথায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের নির্বাচিত হন দলীয় চেয়ারপারসন।
দলের দায়িত্ব নেয়ার দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অনেক সুবিধার লোভ নিজের অবস্থান থেকে খালেদা জিয়াকে এক বিন্দুও সরাতে পারেনি।
বিএনপি সদস্যপদ লাভের পরদিন থেকে রাজপথে প্রতিটি মূহুর্তে সামরিক স্বৈরাশাসক এরশাদের ক্ষমতায় থাকার বিরোধিতা করেছেন তিনি। পরবতীর্তে তিনবার প্রধানমন্ত্রী থাকা এবং বিরোধী দলীয় নেতা থাকা অবস্থায় দেশের স্বার্থ ও সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অনড় থেকেছেন মুত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত।
দল মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনগণ খালেদা জিয়াকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে একটুও কুণ্ঠাবোধ করেনি।
আজ ১ জানুয়ারী নতুন বছরে বাংলাদেশের নতুন পথ চলা শুরু হলো। দেশের চলছে নির্বাচনের ডামাডোল। বিএনপি এখন দেশের সর্ববৃহৎ দল। তারা হয়তোও ক্ষমতায়ও আসবেন।
যে কারনে দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।
আমরা অতীতের কথা বলবো না। আজ থেকে এই দেশের জনগণকে একটি গণতান্ত্রিক এবং ভারসাম্যমূলক অর্থনীতির দেশ গড়ে তোলার কান্ডারি হয়ে উঠার সুযোগ তারেক রহমানের সামনে এসেছে।
দেশের এসে নিজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক জিয়ার দৃঢ় কণ্ঠে বলা আই হ্যাভ প্ল্যান কথাটি দেশের মানুষ গ্রহন করেছে।
বাবা এবং মায়ের জীবনাদর্শ আদশীর্ত হয়ে আজকে থেকে নতুন বাংলাদেশের নতুন কান্ডারি হয়ে উঠুক জনাব তারেক রহমান। দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমরা এই আশাবদ ব্যক্ত করি।

