অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩৫০ জনের বেশি মানুষ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে শনিবার এই নিশ্চিত করেছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গেলো ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলের হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৯৫ জন নিহত ও আরও ৩৫০ জন আহত হয়েছেন।
অনেকে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।
এছাড়াও গেলো বছরের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৯ জনে পৌঁছেছে। এই আট মাসে হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮২ হাজার ৪০৭ জন।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসের সামরিক এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত রাখা হবে।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল।
হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। আহতের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে।
এ গণহত্যা বন্ধের আহবান জানিয়ে জাতিসংঘ বলছে, ইসরাইলি আক্রমণের ফলে গাজার জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গাজার ৭০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গাজার ২২ লাখ অধিবাসী দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে না পারলে বিশ্বকে জবাবদিহি করতে হবে।

