চট্টগ্রামে ইসলামি ব্যাংক চকবাজার শাখার লকার থেকে ১৪৯ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েবের অভিযোগটি অবশেষে থানা হয়ে দুদকের চট্টগ্রাম পরিচালক বরাবর পৌছে গেছে। শীঘ্রই অভিযোগটির তদন্ত শুরু করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছাদাত এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, থানা থেকে পাঠানো অভিযোগটি মঙ্গলবার (৪ মে) দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম পরিচালক। ঢাকা থেকে নির্দেশনা এলে গায়েব হওয়ার সোনার খোঁজে অনুসন্ধান শুরু হবে।
এর আগে নগরীর চকবাজার থানাধীন হিলভিউ সোসাইটির বিটিআই বেভার্লি হিলস এলাকার মৃত ডা. এম এম বারীর স্ত্রী রোকেয়া আক্তার বারী চকবাজার থানায় স্বর্ণ গায়েবের ঘটনাটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) লিপিবদ্ধ করেন।
এতে ইসলামী ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন- ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, কোম্পানি সেক্রেটারি জে কিউ এম হাবিব উল্লাহ, চকবাজার শাখার ব্যবস্থাপক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম শফিকুল মাওলা চৌধুরী ও লকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুস।
রোকেয়া বারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০০৬ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার গ্রাহক। একই ব্যাংকে তার এবং মেয়ে নাসরিন মারজুকা যৌথভাবে একটি লকার ব্যবহার করেন। লকার নম্বর-৪৪ এবং চাবি নম্বর ৩।
লকারে আমার ও আমার মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ১৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। গত ২৯ মে দুপুর দেড়টায় আমার কিছু স্বর্ণালংকার আনার জন্য ব্যাংকে যাই।
লকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইউনুসকে আমার লকার খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। তিনি লকার কক্ষের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক অফিসার আমার নামে বরাদ্দ করা লকারটি খোলা দেখতে পান। আমাকে বললে আমি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ি।
মোট ১৬০ ভরির মতো স্বর্ণ জমা রেখেছিলেন। সেখান থেকে ৬০ ভরি ওজনের ৪০ পিস বড় সাইজের হাতের চুরি, ২৫ ভরি ওজনের গলা ও কানের ৪টি জড়োয়া সেট, ১০ ভরি ওজনের একটি গলার সেট, ২৮ ভরি ওজনের ৭টি গলার চেইন, ১৫ ভরি ওজনের ৪টি আংটি এবং ১১ ভরি ওজনের ৩০ জোড়া কানের দুলসহ ১৪৯ ভরি স্বর্ণ গায়েব হয়ে যায়। মাত্র ১১ ভরি স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকটির চার কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে সোমবার রাতে চকবাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার কথা জানান ভুক্তভোগী রোকেয়া বারী।
জিডির বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার এক গ্রাহক তার ১৪৯ ভরি স্বর্ণ উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছেন।
তার ভাষ্যমতে ঘটনাটি ঘটেছে ব্যাংকের ভেতরে। ফলে অভিযোগপত্রে তিনি যাদের আসামি করেছেন তারা সবাই ওই ব্যাংকেরই কর্মকর্তা।
যেহেতু এটি ব্যাংকের বিষয় সেটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত। এ কারণে বাদীর অভিযোগ থানায় জিডি হিসেবে নিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারাই এ অভিযোগে তদন্ত করবেন।

