চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে স্থগিতাদেশ পেয়েছেন।
একই সাথে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে গোলাম আকবর খোন্দকার আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে সন্ধ্যায় কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা আসে।
২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে ৪৪ সদস্যের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন।
পরবর্তীতে সেই কমিটিতে ৯ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ৫৩ সদস্যের কমিটি করা হয়। কিন্তু সাড়ে চার বছরেও কোন্দলের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি, যা আজ বিলুপ্ত হলো।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গিয়াস কাদের চৌধুরী সম্প্রতি নিজ এলাকায় দলের অভ্যন্তরে হামলাসহ সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন।
একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি উসকানিমূলক ভূমিকা রেখে এলাকায় অরাজক রাজনীতি চালিয়ে গেছেন। এতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুসারে তাকে (গিয়াস কাদের) প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পদ থেকে নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের অনুলিপি দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে রাউজানে বিএনপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে গোলাম আকবর খোন্দকারসহ উভয় গ্রুপের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হন।

