31.4 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদলিডরামুতে ট্রেন দুর্ঘটনায় সান্ত্বনার পরশ অপ্রত্যাশিত বেঁচে যাওয়া শিশু আতাউল্লাহ!

রামুতে ট্রেন দুর্ঘটনায় সান্ত্বনার পরশ অপ্রত্যাশিত বেঁচে যাওয়া শিশু আতাউল্লাহ!

কক্সবাজারের রামুর রশিদনগর রেলক্রসিংয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা শিশুসহ একই পরিবারের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশ পেলেও রাতে অপ্রত্যাশিতভাবে বেঁচে থাকার খবর আসে শিশুটির।

অতচ দুর্ঘটনায় তারও মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতদের স্বজনেরা। শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকাটা শত শোকের মধ্যে যেন সান্ত্বনার পরশ পরিবারটির কাছে।

জানা গেছে, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাড়ে তিন বছর বয়সের আতাউল্লাহসহ এক পরিবারের চারজন এবং সিএনজি চালকের মৃত্যুর খবর যখন বিভিন্ন গণমাধ্যম ভাসছে ঠিক সেদিন রাতেই শিশুটিকে নানাবাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যান কেউ একজন।

নানা জাফর আলম তাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভেবেছিলেন দুই মেয়ে, নাতিদের কেউই বেঁচে নেই। আতাউল্লাহর এই ফিরে আসা তাই তাঁর কাছে ছিল অবিশ্বাস্য।

এর আগে শনিবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর সাবেক পাড়া থেকে দুই মেয়ে ও দুই নাতিকে বিদায় দিয়েছিলেন জাফর আলম।

সেখান থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে জাফরের বড় মেয়ে আসমাউল হোসনার শ্বশুরবাড়ি ঈদগাঁও উপজেলার মেহেরঘোনায় যাচ্ছিলেন। এর আধঘণ্টা পরই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার কথা জানতে পারেন জাফর আলম।

সাথে সাথে ছুটে যান দুর্ঘটনাস্থল রশিদনগরে। সেখানে গিয়ে আধ ঘন্টা আগে বিদায় দেওয়া স্বজনদের খণ্ড খণ্ড হয়ে দেহাবশেষ সনাক্ত করে তিনি ভেবেছিলেন সিএনজিতে থাকা তার দুই মেয়ে ও দুই নাতি-নাতনি সবাই বুঝি না ফেরার দেশে পারি জমিয়েছেন। তবে রাতে আতাউল্লাহর ফিরে আসার পর জানতে পারলেন নাতি এখনো বেঁচে আছে।

কিন্তু কীভাবে বেঁচে গেল আতাউল্লাহ? আজ রোববার সকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিষয়টি গণমাধ্যমকে ব্যাখ্যা করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জাফর আলম।

তিনি বলেন, অটোরিকশায় ঈদগাঁওয়ের মেহেরঘোনায় রওনা দেন তাঁর দুই মেয়ে আসমাউল হোসনা (২৭) ও রেণু আরা আক্তার (১৩) এবং আসমার সাড়ে তিন বছরের ছেলে আতাউল্লাহ ও দেড় বছরের ছেলে আশেক উল্লাহ। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, কেউই বেঁচে নেই। মারা গেছেন অটোরিকশাচালক হাবিব উল্লাহও (৫০)।

জাফর বলেন, ‘দুই মেয়ে ও দুই নাতিকে হাসিমুখেই বাড়ি থেকে বিদায় দিয়েছিলাম। আধা ঘণ্টা পরই দুর্ঘটনার খবর এল। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে মেয়ে ও নাতিদের দেহের খণ্ড খণ্ড অংশ। এমন গা শিউরে ওঠা দৃশ্য দেখতে হবে, কল্পনাও করিনি।’

জাফর আলম একটু থেমে আবারও বলা শুরু করেন, ‘ধারণা করেছিলাম, অটোরিকশাতে ওঠা দুই মেয়ে, দুই নাতির সবাই মারা গেছে। কিন্তু রাতে সাড়ে তিন বছর বয়সী নাতি আতাউল্লাহকে তার মাদ্রাসা থেকে কেউ বাড়িতে রেখে যায়।

জানতে পারি, অটোরিকশায় ওঠার পর পথে ঘোনারপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় আতাউল্লাহকে নামিয়ে দেয় আমার মেয়ে আসমা। এ কারণে বেঁচে যায় সে।’

পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, শনিবার বেলা দেড়টার দিকে রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়া রেলক্রসিং এলাকায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এক পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছিল। কিন্তু পরে রাতে এক শিশু তার নানার বাড়িতে ফিরে আসায় মৃতের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪–এ।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, শনিবার দুর্ঘটনায় সময় মরদেহগুলো দেখে অটোরিকশার পাঁচ যাত্রীর সবাই মারা গেছে ভাবা হয়েছিল। জাফর আলমসহ পরিবারের সদস্যরা চারজনের মৃত্যুর খবর পুলিশকে নিশ্চিত করেছিলেন।

কিন্তু রাতে অটোরিকশার যাত্রী শিশু আতাউল্লাহ ফিরে আসায় সংখ্যাটা কমে দাঁড়ায় ৪–এ।সূত্র-পি-আলো