চট্টগ্রামে অনুমোদন ছাড়াই ৮০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৭ আগস্ট) বিকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আফরোজা হক খান চট্টগ্রামের জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ‘মেসার্স লা-অ্যারিস্টোক্রেসি’-এর ঋণ হিসাবে বিভিন্ন সময় ৭৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৮৪ টাকা নেওয়ার পর তা পরিশোধ না করে পরে টাকাগুলো নগদ, পে-অর্ডার ও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন; এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মাসুদ, তার পিএস আকিজ উদ্দীন, নগরীর আসকারদিঘিরপাড়ের ‘লা এরিস্টোক্রেসি’ রেস্তোরাঁর মালিক নাজমে নওরোজ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, কাজির দেউড়ি শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক নাজমা মালেক ও হুমায়রা সাঈদা খানম।
এছাড়া আসামির তালিকায় আছেন: জেড আর জে সার্ভে কোম্পানির মালিক শফিকুল করিম, মিশকাত ট্রেড সেন্টারের মিশকাত আহমেদ, রাবার সরবরাহকারী মো. আরিফ হাসনাইন, নুর ট্রেডার্সের জসিম উদ্দিন, মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের জুয়েল মিয়া, রিমঝিম শাড়ি হাউজের জয়েল মিয়া, আগমন এন্টারপ্রাইজের এরসাদ সিকদার, এমএইচ এন্টারপ্রাইজের মনিরুল হক, নিউ বসুন্ধরা জুয়েলার্সের যিশু বণিক, আল মদিনা স্টিলের মো. আলমগীর ও মেরিন ফিশের মাহবুবুল হক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২), (৩) ধারা এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ১৯(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ছাড়াও আসামির তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক তিন ব্যাংক কর্মকর্তা, ১২ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও চারজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।
মামলায় বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদ ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নাজমে নওরোজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
তার পিএস আকিজ উদ্দীনের সঙ্গেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে নওরোজ ঋণের নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
২০১৫ সালে দেড় কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তাকে ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকারও বেশি অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া হয়।
২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তার নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
দুদকের তদন্তে আরও উঠে আসে, ২০২০-২১ সালে নওরোজ নগদে ঋণের টাকা তুলে ১১টি প্রতিষ্ঠান ও ৩ জন ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর করেন। মামলায় ওই প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মালিকদেরও আসামি করা হয়েছে।

