চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসের র্যালিতে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া ছয়জনকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম আশিক জানান, আজ শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জশনে জুলুস উপলক্ষে র্যালিতে প্রচণ্ড গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
তাদের মধ্যে পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ষাট বছরের বৃদ্ধ আইয়ুব আলী ও নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ১৩ বছর বয়সের কিশোর সাইফুল ইসলাম মারা গেছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, অন্তত আরও ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, জশনে জুলুস উপলক্ষে র্যালিতে আসা পটিয়ার বাসিন্দা শুক্কুর আলী জানান, নগরীর মুরাদপুর এলাকায় জুলুসে মানুষের ভিড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৭ থেকে ৮ জন। তাদেরকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পঠানো হয়।
তাৎক্ষনিক একজনের নাম পরিচয় জানা গেলেও বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। পরিচয় পাওয়া যুবকের নাম মাহফুজ (৩৫)। সে বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ২নং ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আঞ্জুমানের স্বেচ্ছাসেবক মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘জুলুসে প্রচণ্ড ভিড়ে চাপা পড়েছিল বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে আহত ৭ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাৎক্ষনিক একজনকে মৃত ঘোষণা করেছেন। পরে শুনেছি আরও এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে এবং একজনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জশনে জুলুস শুরু হয়। এ বছর জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্।
এতে উপস্থিত আছেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ। সৈয়দ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ ও আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
এ জুলুসের আয়োজক সংস্থা আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসাসংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়া থেকে সকাল ১০টায় শুরু হয়।
সেখান থেকে শুরু হয়ে বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর-২ নম্বর গেট-জিইসি মোড় হয়ে পুনরায় ২ নম্বর গেট-ষোলশহর-মুরাদপুর-বিবিরহাট-জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসাসংলগ্ন জুলুস ময়দানে জমায়েত হয়।
সেখানে মাহফিল এবং জোহরের নামাজ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

