দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। কৃষি নির্ভর এই দেশে বাড়ার কথা ছিল খামারি । কিন্তু উপযুক্ত পরিকল্পনা ও সহযোগিতার অভাবে দিন দিন কমছে খামারির সংখ্যা।
একদিকে বছর বছর গরুর দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে গরু কোরবানির সংখ্যা। ফলে খামারিদেরও কেউ কেউ এবার গরু পালনের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, এবার তাহলে কোরবানির জন্য গরুর সরবরাহ কেমন?
এক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদদপ্তর অবশ্য বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি আছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসেব বলছে, এবছর কোরবানির জন্য সারাদেশে খামারিরা গরু ও মহিষ প্রস্তুত করেছেন প্রায় ৫৭ লাখ।
অর্থাৎ গতবছর যে ৪৬ লাখ গরু কোরবানি হয়েছে, এবার প্রস্তুতকৃত গরু ও মহিষের সংখ্যা তার চেয়ে প্রায় ১১ লাখ বেশি।
সামগ্রিকভাবে কেরাবানির জন্য গরু—মহিষ, ছাগল—ভেড়াসহ গবাদিপশু চাহিদার তুলনায় বেশি আছে বলেই জানাচ্ছে অধিদপ্তর।
চলতি মে মাসের শুরুতেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ঢাকায় আনুষ্ঠানিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, এবছর দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ। এর বিপরীতে কোরবানি হতে পারে এক কোটি এক লাখ। সে হিসাবে এবার কোরবানির পর সোয়া ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
কিন্তু যারা সারাবছর ধরে কোরবানির জন্য, বিশেষত, গরু প্রস্তুত করেছেন, তারা যদি বিক্রি করতে না পারেন তাহলে অবিক্রিত গরুর ক্ষতি পোষাবে কীভাবে?
এমন প্রশ্নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (খামার) মো. শরীফুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, উদ্বৃত্ত থাকলেও খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “প্রতিবছরই কিছু উদ্বৃত্ত থাকে। কিন্তু যদি গরুর কথাই ধরেন, তাহলে দেখা যাবে যে সারাবছর যে পরিমাণে জবাই হয়, তার অর্ধেক হয় কোরবানিতে। আর বাকি অর্ধেক জবাই হয় সারাবছর। অর্থাৎ মাংসের চাহিদা কিন্তু সারাবছরই আছে। বছরজুড়ে নানা রকম বড় বড় অনুষ্ঠান হয়, বিয়ের অনুষ্ঠান হয় — এগুলোতে কিন্তু গরুর মাংসের চাহিদা থাকেই। সুতরাং গরু ঈদে বিক্রি না করতে পারলেও লোকসান হওয়ার সুযোগ নেই।”
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যদিও বলছে, সারাবছরই মাংসের চাহিদা থাকায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু অন্যসময়ও বিক্রি করা যাবে, তবে খামারিরা বলছেন— মাংসের দামে গরু বিক্রি করলে যে লাভ হয় তাতে গরু পালনের খরচ এবং পরিশ্রম ‘উসুল হয় না’। বিবিসি

